চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

৫ নভেম্বর, ২০২৬ | ৬:৫৪ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে দেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটিকে এই ষড়যন্ত্রকারীরা ভেস্তে দিতে চাইছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আজ জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশের শ্রমিক ভাইদের রুখে দাঁড়াতে হবে, যাতে কোনোভাবেই সেই ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ না পায়। কারণ আজ সময় এসেছে দেশ গঠন করার, আজ সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার।’

ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সব শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সঠিক জবাব দেব। এই ষড়যন্ত্রকারীদের দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ জবাব দেব। আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই সেটা হলো- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘যারা বিগত ১৫-১৬ বছরে দেশের অবস্থার, মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা এদেশ থেকে মানুষের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল, আমরা দেখেছি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে জনতার অভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।’

তিনি বলেন, আজ তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে। দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয় তারা দেশের মিল কারখানা ভেঙে দিতে চাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানাগুলো দেশের মানুষের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। কলকারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমজীবী মানুষ। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

মজুরি বোর্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জানি, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি দাওয়া আছে। আপনারা দেখেছেন ইতোমধ্যে আমরা সেই দাবিগুলো বিবেচনা ও পরিচালনা করার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘মজুরি বোর্ড ইতোমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামী দুই এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনরা এর চেয়েও ভালো থাকতে পারেন।’

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দিনরাত পরিশ্রম করছে কীভাবে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়, শিল্পের প্রসার ঘটানো যায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করা যায়।

দেশে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একসময় খুলনা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল ছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত নতুন করে হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।

এর আগে, সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের (সিজন-২) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সূত্র: বাসস

পূর্বকোণ/নুসরাত/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট