চট্টগ্রাম বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে পোশাক খাতের নতুন মজুরি

ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে পোশাকখাতের নতুন মজুরি

অনলাইন ডেস্ক

৪ নভেম্বর, ২০২৬ | ৩:২০ অপরাহ্ণ

তৈরি পোশাকশিল্পে আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হবে। আর জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বাড়তি বেতন হাতে পাবেন। ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।
 
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানীর সভাপতিত্বে সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে সভা শুরু হয়।
 
বাবুল আখতার বলেন, আজকের সভায় আমরা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব ও আলোচনা করেছি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও একমত হয়েছেন, নতুন মজুরি ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। জানুয়ারিতে ডিসেম্বর মাসের মজুরি দেওয়ার সময় শ্রমিকরা নতুন মজুরি অনুযায়ী বর্ধিত মজুরি পাবেন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।
 
তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ড ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের। কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলন করলেই কোনো একক মালিকের পক্ষে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
 
বাবুল আখতার বলেন, শ্রমিকদের মজুরি ছাড়াও নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। শ্রম আইন বাস্তবায়ন না হওয়া, ট্রেড ইউনিয়ন করতে না পারা, ছুটি না পাওয়া এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন অভিযোগ ও বঞ্চনা দীর্ঘদিনের। এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হবে।
 
শ্রমিকদের মজুরির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিভিন্ন অঙ্কের মজুরির প্রস্তাব দিয়েছে। কেউ ৩০ হাজার টাকা, কেউ ২৭ হাজার টাকা, আবার কেউ ডলারের হিসাবে মজুরি দাবি করেছেন। তবে সব শ্রমিক ফেডারেশন একসঙ্গে বসে একটি সমন্বিত দাবি তৈরি করে পরবর্তী সভায় বোর্ডের কাছে উপস্থাপনের চেষ্টা করবে।
 
বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্যের কাছেও শ্রমিকদের জন্য একটি যৌক্তিক মজুরির প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান বাবুল আখতার। তিনি বলেন, মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ সদস্যের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বোর্ড সুপারিশ তৈরি করবে। পরে তা শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার সেই সুপারিশ বিবেচনা করে গেজেট প্রকাশ করবে।
 
আন্দোলনে সহিংসতা না করার আহ্বান
 
চলমান শ্রমিক আন্দোলনে সহিংসতার বিষয়ে বাবুল আখতার বলেন, আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ বা রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা হচ্ছে। শ্রমিকদের এ ধরনের কোনো ইন্ধনের শিকার না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 
 
একই সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থ একটাই, শিল্প টিকিয়ে রাখতে হবে, কাজ করতে হবে এবং ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে হবে।
 
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা সাধারণত সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তবে তাদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা হলে ক্ষোভ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। শ্রমিকনেতা ও সাধারণ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার না করা, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নির্যাতন না করা এবং যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
 
পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট