রাজধানীর সাভারে বিকাশের ইলেকট্রনিক অর্থ (ই-মানি) হিসেবে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নায়ফা ট্রেড বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মসাৎ হওয়া বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সন্ধানে কাজ চলছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দু’জনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
তারা হলেন- নায়ফা ট্রেড বিডির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার মো. আল আমিন ইসলাম (২১) এবং নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়ার অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ইউসুফ রায়হান (২৪)।
মামলার অপর আসামি প্রতিষ্ঠানটির ডিস্ট্রিবিউটর সেলস অফিসার (ডিএসও) জাহিদ হাসান অন্তর পলাতক রয়েছেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আল আমিন ২০২২ সালের ২০ মে থেকে নায়ফা ট্রেড বিডির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার, ইউসুফ রায়হান ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়ার অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার এবং জাহিদ হাসান অন্তর ২০২৬ সালের ১৪ জুন থেকে ডিএসও হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার বাদী নায়ফা ট্রেড বিডি ও নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়ার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার অভিযোগে বলেন, গত ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে আল আমিন বিকাশ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে ই-মানি উত্তোলনের জন্য প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র অ্যাকাউন্টস জেনারেল ম্যানেজারের কাছে ওটিপি চান। তিনি সরল বিশ্বাসে ওটিপি দিয়ে দেন। পরে অফিস বন্ধ হওয়ার পর ওটিপি চাওয়ায় সন্দেহ হলে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান।
এরপর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা রাত সাড়ে ৯টায় আশুলিয়ার জামগড়া বঙ্গ মার্কেট এলাকায় ইউসুফ রায়হানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টায় ফ্যান্টাসি কিংডমের পেছনের চিত্রশাইল-কাঠালতলা এলাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের অফিসে এনে হিসাব-নিকাশ যাচাই করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ওটিপি ব্যবহার করে আল আমিন ঢাকা ব্যাংকের হিসাব থেকে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার ই-মানি মাস্টার ওয়ালেটে নেন। পরে এর মধ্যে ৬৫ লাখ টাকার ই-মানি ইউসুফ রায়হানের বিকাশ এসএ ওয়ালেটে পাঠানো হয়। ওই অর্থ বাজারে বিতরণ না করে নিজের কাছে রেখে দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি। বাকি ৪০ লাখ টাকার ই-মানি বাজারে বিতরণ করা হয়।
পুলিশের দাবি, ওই দিন নায়ফা ট্রেড বিডি অফিসে ৮৮ লাখ ৮ হাজার ১৭৬ টাকা এবং নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়া অফিসে ২ লাখ ৮ হাজার ২০৮ টাকা থাকার কথা থাকলেও হিসাবের সঙ্গে গরমিল পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আল আমিনের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং ইউসুফ রায়হানের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, নায়ফা ট্রেড বিডি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে- অভিযানের সময় মোট ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মসাৎ হওয়া বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার এখনো কোনো হদিস পাওয়া যায় নি।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে জাহিদ হাসান অন্তরও এই আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত। তিন জন মিলে ২৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে নায়ফা ট্রেড বিডি ও নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়া কার্যালয় থেকে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। ঘটনার পর জাহিদ হাসান অন্তর আত্মগোপনে চলে যান।
নায়ফা ট্রেড বিডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশের ই-মানি হিসেবে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে জানানো হলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আত্মসাৎ হওয়া বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শেখর চন্দ্র মল্লিক আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে বলেন, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ কোথায় রাখা হয়েছে, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, অর্থ কোন কোন ব্যক্তি বা মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে, পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের শনাক্ত করা এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/এএইচ















