চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জাইকা প্রেসিডেন্টের

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জাইকা প্রেসিডেন্টের

৬ জুলাই, ২০২৬ | ৭:৫০ অপরাহ্ণ

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো পাঁচদিনের বাংলাদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। এ সফরে তিনি বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সোমবার (৬ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

সফরের শুরুতে ড. তানাকা ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের স্মরণে আয়োজিত ‘দশম বার্ষিক স্মরণসভা’তে অংশ নেন। সেসময় তিনি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

 

এ সময় জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া, পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন জরুরি সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

 

ড. তানাকা সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

 

এসব বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

সফরের অংশ হিসেবে ড. তানাকা জাইকার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন একাধিক প্রকল্প পরিদর্শন করেন। গত ১ জুলাই তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। চালু হলে নতুন এ টার্মিনাল দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে যাত্রীসেবা, বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশের একটি আধুনিক রূপ তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

তিনি ৩ জুলাই মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর ঘুরে দেখেন। এসব প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন। এ উদ্যোগ জাপানের ‘আপডেটেড ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ ভিশনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানান।

 

ড. তানাকা ৪ জুলাই কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ই-ভাউচার কেন্দ্র, ইউএনএইচসিআর-এর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আইওএম পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জাইকার সহায়তায় পরিচালিত জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এছাড়া শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও চলমান সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করেন।

 

পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট