চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

দেশব্যাপী ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, ফ্রি বেড ও কঠোর অভিযানের ঘোষণা

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, ফ্রি বেড ও কঠোর অভিযানের ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক

২ জুন, ২০২৬ | ৩:৩১ অপরাহ্ণ

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায করতে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে দেশব্যাপী কঠোর অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু চিকিৎসার মানোন্নয়ন ও রোগীর চাপ সামাল দিতে সরকারি-বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

(২ জুন) মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন বিষয়ক এক সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ।

 

সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলায় চিকিৎসকদের ডেঙ্গু চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী শনিবার ঢাকা থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

 

পরে সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিভিন্ন পর্যায়ে কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

 

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসার গাইডলাইন ও প্রোটোকল সম্বলিত এক লাখ বই ছাপানো হয়েছে। এগুলো সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও বিতরণ করা হবে।

 

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সিটি কর্পোরেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নালা, খাল, পুকুর, গ্যারেজ, ছাদ ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। কোথাও মশার লার্ভা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, জমে থাকা পানিতে লার্ভা ধ্বংসের জন্য বিশেষ ট্যাবলেট ব্যবহার করা হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে এসব ট্যাবলেট সংগ্রহ করে সারা দেশে প্রয়োগ করা হবে, যাতে নতুন করে মশার বংশবিস্তার না ঘটে।

 

সভায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব শয্যায় ভর্তি হওয়া রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসকদের ফি নেওয়া হবে না। রোগীদের শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ বহন করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু-সংক্রান্ত পরীক্ষার খরচেও ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

ডেঙ্গুর টিকা প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশে এ টিকা ব্যবহৃত হলেও এখনো তা সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত নয়। তাই বাংলাদেশে তাৎক্ষণিকভাবে গণহারে টিকা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

 

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মৌসুমে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখতে হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিটি হাসপাতালকে তাদের শয্যাসংখ্যা, ডেঙ্গু রোগীর জন্য বরাদ্দ বেড এবং স্যালাইনের মজুতের তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যাও গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে জনমনে আস্থা তৈরি হবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলোও সামনে আসবে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাকালিন সময়ে যেমন সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছিল, তেমনি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধেও সরকার, চিকিৎসক, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধকে তিনি জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

পূর্বকোণ/রাকিব

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট