পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ‘ফিউচার-ফিট’ ব্যবসায়িক মডেলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে স্থানীয় অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তার দোরগোড়া পর্যন্ত টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করছে।
ইউনিলিভারের এই রূপান্তরের মূলে রয়েছে তাদের ঐতিহ্যবাহী কালুরঘাট কারখানা, যা এখন ‘ইন্ডাস্ট্রি ৪.০’ বা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে অগ্রগামী। ১৯৬৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা এই কারখানায় এখন ধাপে ধাপে জায়গা করে নিচ্ছে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন স্মার্ট প্রযুক্তি। বর্তমানে এখানে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘কোবট’ বা কোলাবোরেটিভ রোবট, যা পণ্য প্যাকেটজাতকরণ ও মান যাচাইয়ের মতো কাজে কর্মীদের সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে মেশিনের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করার ফলে উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে।
দেশের প্রায় ১৪ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকানে পণ্য পৌঁছাতে আগে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে বর্তমানে ইউনিলিভার ‘আইকিউ নেক্সাস’ (IQ Nexus) নামক নিউরাল নেটওয়ার্কভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, যা বর্তমানে দেশের প্রায় ৫ লাখ খুচরা ব্যবসায়ীর ব্যবসার ধরনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই সিস্টেমটি বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাহিদার পূর্বাভাস দিতে পারে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিক্রয় প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
ইউনিলিভার মনে করে, কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং মানুষ ও সিস্টেমের মেলবন্ধনই টেকসই রূপান্তর নিশ্চিত করতে পারে। একারণে কর্মীদের প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ‘ডিজি-অপস’ (DigiOps) ও ‘সিটিজেন ডেভেলপার’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ যখন দ্রুত ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ইউনিলিভারের এই ফিউচার-ফিট উদ্যোগ একটি আধুনিক ও টেকসই ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম তৈরির অনন্য কারিগর হিসেবে কাজ করছে।
পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ











