চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

‘আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন’, শুনানিতে সুব্রত বাইনের মেয়ে

‘আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন’, শুনানিতে সুব্রত বাইনের মেয়ে

অনলাইন ডেস্ক

২৪ মে, ২০২৬ | ১২:১৯ অপরাহ্ণ

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাড্ডা থানার একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথী দাবি করেছেন, কেবলমাত্র বাবার কারণে তাকে ‘মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে’।

 

এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালতের উদ্দেশে তিনি বলেন ‘আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন’।

 

শনিবার (২৪ মে) সোহেলী তামান্না হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বিথীকে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

 

গত ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই আমিনুর রহমান বিথীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন।

 

এদিন শুনানিকালে বিথিকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন বিথী।

 

তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন? আমার বাচ্চা আছে। বারবার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি চাকরি করে চলি। এত টাকা কই পাব?’

 

কোনো রাজনীতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে শুনানিতে দাবি করেছেন বীথি।

 

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগের সঙ্গে জড়িত থাকব কিভাবে? শুধুমাত্র বাবার কারণে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমার ১৩ বছরের একটা মেয়ে বাচ্চা আছে। এর আগে আমি একটি মামলায় জামিন পাই। পরে আবার সাজানো মামলা দেয়। বারবার এত মামলা দেওয়ার কারণ কী জানিনা। আমি সেদিন আমার বাবাকে দেখতে গেছিলাম। সেখান থেকেই আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। মেয়ে হিসেবে বাবাকে দেখতে যেতেই পারি। আমি জুলাইয়ের সময় পার্ট টাইম জবের জন্য সিলেট গেছিলাম।’

 

পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন শামছুদ্দোহা সুমন।

 

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে বিথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, চব্বিশের সরকার পতনের দিন বেলা ১১টায় ভাটারায় রাস্তার উপর সোহেলী তামান্নাসহ আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন।

 

এ সময় আন্দোলনকারীদের উপর বেপরোয়াভাবে গুলি বর্ষণ চলে। আসামিদের ছোড়া গুলিতে সোহেলী তামান্না গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে আহত অবস্থায় সেখানকার মানুষরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে পরে ভাটারা থানায় মামলা করেন তামান্না।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট