চট্টগ্রাম শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

গরুর মাংস আমদানির সুযোগ চান রেস্তোরাঁ মালিকেরা: ১১ দফা দাবি পেশ

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা দাবি

গরুর মাংস আমদানির সুযোগ চান রেস্তোরাঁ মালিকেরা

অনলাইন ডেস্ক

১০ মে, ২০২৬ | ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

দেশের বাজারে গরুর মাংসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষিতে এখন নিজেরাই বিদেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি করার সুযোগ দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

 

আজ রবিবার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

 

আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের বর্তমান সংকট উত্তরণে ১১ দফা দাবি তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। পশুখাদ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকায় গবাদিপশু পালন কমে গেছে এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে দেশের রেস্তোরাঁ খাত গভীর সংকটে পড়েছে বলে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন।

 

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির উত্থাপিত ১১ দফা দাবির মধ্যে প্রধান হলো- রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা এবং এই খাতকে ‘শিল্প’ হিসেবে ঘোষণা করা।

এছাড়া ব্যবসায়ীরা অন্যান্য যেসব দাবি জানান সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-

ভ্যাট ও কর হ্রাস: রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হলেও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে করের চাপে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন। আগামী বাজেটে এসব কর সহনীয় করা এবং উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

এলপিজি সংকট সমাধান: বর্তমানের গুরুতর এলপিজি গ্যাস সংকট সমাধানে পরিকল্পিতভাবে নতুন গ্যাস সংযোগ চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

নিবন্ধন ও স্বাস্থ্যবিধি: দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বর্তমানে অনিবন্ধিত। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না উল্লেখ করে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি তোলা হয়।

হয়রানি বন্ধ: ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে কিছু অসাধু গোষ্ঠীর চাঁদাবাজি, হয়রানি ও মালিকদের জিম্মি করার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠনটি।

মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্যানটিন ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট ৫ শতাংশ করা জরুরি। যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও নীতি সংস্কারের মাধ্যমে এই খাতকে রক্ষা করার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

পূর্বকোণ/কায়ছার 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট