সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন- আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং মালিকপক্ষ সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
রবিবার (১০ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহণ ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি।
মন্ত্রী বলেন, গত ঈদে সদরঘাটে আগের চেয়ে ভালো ব্যবস্থাপনা দেখা গেলেও আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতা বজায় থাকলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের নৌ ব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দিলে এই প্রচেষ্টা সফল হবে না।
লঞ্চ মালিক সমিতি, কার্গো মালিক প্রতিনিধি ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নৌযাত্রাকে নিরাপদ, মনোরম ও উপভোগ্য করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৃহত্তর স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা, চীন ও ভারতের উন্নয়ন এসেছে মেধা, শ্রম, ত্যাগ, তৎপরতা ও দায়িত্ববোধের বিনিয়োগের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের এখনো প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ মানুষের দৈনিক আয় মাত্র ৬০ টাকা ৬১ পয়সা। তাই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যুক্ত এবং আর্থিকভাবে নিরাপদ অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের উচিত নিজেদের মেধা, শ্রম ও সামর্থ্যের একটি অংশ দেশের উন্নয়নে উৎসর্গ করা। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করলেই দেশ বদলে যাবে।
অনুষ্ঠানে শ্রমিক সংগঠনের স্লোগান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি শ্রমিক, মালিক ও কর্মকর্তাদের জাতীয় অনুষ্ঠান। তাই দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে এটিকে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা উচিত। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করছে, কোনো দলের হয়ে নয়। জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
নাবিক প্রতিনিধিদের উত্থাপিত আইনগত একটি বিষয় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, নৌখাতকে আরও বিকশিত ও সুসংগঠিত করতে প্রয়োজনীয় যে কোনো উদ্যোগ নিতে সরকার প্রস্তুত। তবে যে কোনো দাবি হতে হবে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে।
পূর্বকোণ/এএইচ


















