প্রতিদিনের ব্যবহার্য পণ্য টুথপেস্টেও পাওয়া গেছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি। দাঁতের যত্নে প্রতিদিন যে পণ্য ব্যবহার করা হয়, সেখানেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সন্ধান পাওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
Environment and Social Development Organization (ESDO)-এর এক গবেষণায় দেশের বাজারে পাওয়া বিভিন্ন টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষণায় স্থানীয় ও আমদানিকৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, বেশ কিছু নমুনায় ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি রয়েছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক কী?
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা। এগুলো এত ক্ষুদ্র যে খালি চোখে অনেক সময় দেখা যায় না। প্লাস্টিক ভেঙে ছোট হওয়া বা বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যে ব্যবহারের মাধ্যমে এসব কণা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
টুথপেস্টে কেন থাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক?
আগে অনেক টুথপেস্টে দাঁত পরিষ্কারের সময় ঘর্ষণ বাড়ানোর জন্য মাইক্রোবিড (ক্ষুদ্র প্লাস্টিক দানা) ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান এগুলো ব্যবহার বন্ধ করলেও কিছু পণ্যে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকজাত উপাদান থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মানবদেহে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব কণা শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খলে জমা হওয়ার কারণে এটি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দাঁত ব্রাশের সময় কী করবেন?
1. টুথপেস্টের উপাদান দেখে কিনুন
টুথপেস্ট কেনার আগে এর Ingredients তালিকা দেখে নিন। Microbeads, Polyethylene (PE), Polypropylene (PP)-এর মতো প্লাস্টিকজাত উপাদান থাকলে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
2.অল্প পরিমাণ টুথপেস্ট ব্যবহার করুন
দাঁত পরিষ্কারের জন্য বেশি টুথপেস্ট প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণ ব্যবহার করুন।
3.ব্রাশের পর ভালোভাবে কুলি করুন
দাঁত ব্রাশ করার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন, যাতে কোনো অবশিষ্ট কণা থেকে না যায়।
4. টুথপেস্ট গিলে ফেলবেন না
ব্রাশ করার সময় টুথপেস্ট যেন ভুল করে শরীরের ভেতরে না যায়, সেদিকে সতর্ক থাকুন।
5. বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করুন
মান নিয়ন্ত্রণ করা হয় এমন পরিচিত ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট বেছে নিন।
6. মেয়াদ (Expiry Date) দেখে কিনুন
মেয়াদ শেষ হওয়া টুথপেস্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
7. শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিন
ছোট শিশুরা অনেক সময় টুথপেস্ট গিলে ফেলে, তাই তাদের জন্য বয়স উপযোগী টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।
8. নিয়মিত টুথব্রাশ পরিবর্তন করুন
প্রতি ৩ মাস পরপর বা ব্রাশের লোম ক্ষয় হলে নতুন ব্রাশ ব্যবহার করুন।
9. অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না
বেশি জোরে ব্রাশ করলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। নরমভাবে ও সঠিক নিয়মে ব্রাশ করুন।
10. প্রাকৃতিক ও নিরাপদ বিকল্প বিবেচনা করুন
সম্ভব হলে পরিবেশবান্ধব ও মাইক্রোপ্লাস্টিক-মুক্ত টুথপেস্ট বেছে নিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনভাবে পণ্য নির্বাচন ও সঠিক ব্রাশিং অভ্যাসই দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পূর্বকোণ/নুসরাত জাহান/পারভেজ















