চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

সন্তানের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন করছে যুক্তরাষ্ট্র

সন্তানের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন করছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের পাসপোর্টের আবেদন করার ক্ষেত্রে মা-বাবার নিজের নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসন অবস্থার প্রমাণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের পরিকল্পনা করছে দেশটির প্রশাসন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবিত এই নির্দেশনা ট্রাম্পের গত ৬ আগস্টের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে তার দলের প্রথম বিস্তারিত রূপরেখা। ‘‘বার্থ ট্যুরিজম’’ বা সন্তান জন্ম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বন্ধ এবং জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ব্যতিক্রমের পরিধি বাড়ানোই এই আদেশের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

 

রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তার প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মর্যাদা পুরোপুরি রক্ষা করবে। পাসপোর্ট দেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়াটি নতুন নিয়মের মধ্যে পড়ে; যাতে যথাযথভাবে এই মানদণ্ড মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।

 

• নতুন প্রস্তাবে কী রয়েছে?
দেশটির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী সন্তানদের পাসপোর্টের আবেদনের সময় মা-বাবাকে কেবল সেই নাবালকের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক প্রমাণ এবং সরকার স্বীকৃত ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়।

 

বর্তমান কাঠামোতেও আবেদন ফরমে মা-বাবার নাগরিকত্বের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। তবে অভিবাসন অবস্থা প্রমাণের জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

 

পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়া নির্দেশনায় এই নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নম্বর উল্লেখ করে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন বিধির অধীন আবেদনকারী ব্যক্তি নির্বাহী আদেশ ১৪৪১৮-এর আওতায় পড়েন কি না, তা নির্ধারণের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র দপ্তর মা-বাবার তথ্য এবং তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন সংক্রান্ত প্রমাণের নথি দাবি করবে।

 

প্রস্তাবিত নতুন আইন চালু হলে, সন্তানদের পাসপোর্টের আবেদন করার সময় সব মা-বাবা বা আইনি অভিভাবকদের নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। এর মধ্যে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ কিংবা তাদের অভিবাসন সংক্রান্ত নথি (যেমন: আই-৯৪ ফরম অথবা স্থায়ী নাগরিকত্বের গ্রিন কার্ড) জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

 

পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়, নতুন আদেশের অধীনে শিশুটি নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য কি না, সরকার এসব তথ্য যাচাই করে তা নির্ধারণ করবে।

 

• মূল লক্ষ্য
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই নির্দেশনার আওতায় যেসব মা-বাবা যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য জালিয়াতি বা বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত অথবা শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত, তাদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হবে।

 

জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব সীমিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে আইনি লড়াই চলার মধ্যেই পাসপোর্ট সংক্রান্ত এই নতুন বিধির প্রস্তাব এল। ট্রাম্পের প্রাথমিক আদেশের কারণে যে শিশুরা নাগরিকত্ব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, তাদের পক্ষে একটি দলগত মামলা বা ‘ক্লাস-অ্যাকশন লসুট’ লড়ছেন আইনজীবীরা। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আদেশের বাস্তবায়ন ঠেকাতে দুটি আলাদা ফেডারেল বিচারকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

 

এর মধ্যে একটি মামলা মার্কিন বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যানের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, যিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

 

মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে অনুষ্ঠিত শুক্রবারের এক শুনানিতে বোর্ডম্যান ট্রাম্পের আদেশকে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া এটি স্থগিত করা যায় কি না তা বিবেচনায় নিতে বাদীপক্ষকে মামলায় সংশোধনী আনার অনুমতি দেন বিচারক।

 

তবে বিচার বিভাগের আইনজীবীরা বলেছেন, ট্রাম্পের আদেশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে দেশের সংস্থাগুলো এখনো কোনো নীতি প্রকাশ করেনি। ফলে এ পর্যায়ে বিচারিক স্থগিতাদেশ দেওয়া অনুচিত হবে এবং মামলাটি তড়িঘড়ি করে দায়ের করা হয়েছে।

 

• ট্রাম্পের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত এজেন্ডা
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যাপক কঠোর পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম অগ্রাধিকারের বিষয় হলো জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব সীমিত করা। যদিও তার আগের এক প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করে বলে রায় দিয়েছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

 

ট্রাম্পের প্রাথমিক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, কেবল সেই সব শিশু জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে, যাদের মা-বাবার অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাসের আইনি অনুমতিপ্রাপ্ত।

 

তবে ৬-৩ ভোটে দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচার বেঞ্চ বলেছেন, ট্রাম্পের সেই আদেশ বেআইনি ছিল। বিচারকদের একটি বড় অংশ মত দেন, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। সূত্র: রয়টার্স

 

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট