চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ জুন, ২০২৬ | ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে দেশটি হরমুজ প্রণালিতে দুটি নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।

 

ইরানে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, বাহরাইনের শেখ ইসা এবং কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ‘অবৈধভাবে’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

 

আইআরজিসির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ‘বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ করেছে। ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। বাহিনীটি জানিয়েছে, হরমুজ বন্ধ থাকায় ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হবে।

 

ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ঘোষণার পর এসব হামলা চালানো হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এবং ‘ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাবে’ তারা ইরানে হামলা চালিয়েছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরে বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কারগানেও বিস্ফোরণ হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার একদিন পরই এই সর্বশেষ সংঘাত শুরু হলো।

 

শান্তি চুক্তিতে দেরি করার অভিযোগ এনে গতকাল বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিরোধের ঘোষণা দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

 

সম্প্রতি ইসরায়েল-ইরান সরাসরি সংঘর্ষ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচল সীমিত হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও খাদ্যের দাম বেড়েছে। জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং লেবানন যুদ্ধের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ‘আরও গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে’ এবং সাম্প্রতিক হামলার অর্থ হলো যুদ্ধবিরতি এখন অনেকটা ‘নামমাত্র যুদ্ধবিরতিতে’ পরিণত হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, এই ছোটখাটো সংঘাত যাতে বড় কোনো যুদ্ধে রূপ না নেয়, সেদিকে আমাদের কড়া নজর দিতে হবে। সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। আর কোনো হামলা বা অজুহাত চলবে না।

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট