ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের সর্দি-কাশি, গলাব্যথা ও জ্বরের সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। কখনো খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট হয়, আবার কখনো গলার ভেতরে টনসিল ফুলে যায়। এসব উপসর্গের পেছনে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকতে পারে। টনসিলে প্রদাহ হলে তাকে বলা হয় টনসিলাইটিস।
কেন হয় শিশুদের টনসিলের সমস্যা?
টনসিল গলার পেছনের দুই পাশে অবস্থিত এক ধরনের লসিকাযুক্ত টিস্যু, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ। মুখ ও নাক দিয়ে প্রবেশ করা জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এটি ভূমিকা রাখে।
তবে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টনসিলে প্রদাহ হতে পারে। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। সংক্রমণের পাশাপাশি ধুলাবালি ও অ্যালার্জির কারণেও গলায় অস্বস্তি হতে পারে, যদিও এগুলো সাধারণত সরাসরি টনসিলাইটিসের কারণ নয়।
শিশুর গলাব্যথা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে ব্যথা তীব্র হলে, দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা বারবার ফিরে এলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সঠিক কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
শিশুর গলাব্যথা বা টনসিলের প্রদাহ হলে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে যেমন :
জ্বর, মাথাব্যথা ও কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন। গলাব্যথা এবং খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট হওয়া। মুখে দুর্গন্ধ এবং গলার পাশে লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া। টনসিল ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া; কখনো টনসিলে সাদা দাগও দেখা যেতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে খাওয়ার অনীহা, বমি বমি ভাব কিংবা বারবার জ্বর হওয়া।
এসব লক্ষণ থাকলেই যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে, তা নয়। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের লক্ষণ অনেক সময় একই রকম হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গলাব্যথার সময় শিশুর অস্বস্তি কমাতে এবং সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করতে বাড়িতে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারেন :
পর্যাপ্ত তরল পান করান: শিশুকে বারবার পানি ও আরামদায়ক তাপমাত্রার পানীয় দিন। গিলতে সুবিধা হলে কুসুম গরম তরলও দেওয়া যেতে পারে। খুব গরম পানীয় এড়িয়ে চলুন।
কুসুম গরম লবণপানিতে গার্গল: কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে গার্গল করতে দেওয়া যেতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি উপযুক্ত নয়, কারণ তারা পানি গিলে ফেলতে পারে বা দম আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সংক্রমণ ছড়ানো কমান: শিশুকে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করান। কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা শেখান।
কখন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি?
জ্বর বা গলাব্যথা তীব্র হলে, দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা বারবার ফিরে এলে। শ্বাসকষ্ট, লালা গিলতে না পারা বা গুরুতর পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন।
মনে রাখবেন, শিশুর গলাব্যথা মানেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন নয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অপ্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবহার কমানো যায় এবং সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
পূর্বকোণ/মিফতা


















