ইংরেজি প্রবাদ আছে, ‘অ্যান অ্যাপল আ ডে, কিপস দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে!’ অর্থাৎ প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তার দূরে থাকবেন, অসুখবিসুখ হবে না। নিয়মিত ফল খেলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু ফল খাওয়ার ধরন একেকজনের একেক রকম। কেউ ফলের খোসাসমেত খান, কেউ আবার খোসা ছাড়িয়ে। কারও প্রিয় ফলের রস। কেউ ফল চিবিয়ে খেতে ভালোবাসেন। ফলের পুষ্টিগুণ কতটুকু পাবেন, তা নির্ভর করে খাওয়ার ধরনের ওপর। মেশিনে ফলের রস করে খাওয়া সহজ, কিন্তু ফল চিবিয়ে খেলেই উপকার বেশি। ফল চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস কেন বেশি উপকারী?
ফলের খোসায় প্রচুর ফাইবার থাকে। ফলের বাইরের অংশ ও খোসার অভ্যন্তরে এই ফাইবার থাকায় ফলের রস করে খেলে এর উপকার পাওয়া যায় না। ফলে ফলের অনেক পুষ্টিগুণ অধরা থেকে যায়। তাই যেসব ফল চিবিয়ে খাওয়া সম্ভব, সেসব রস না করে চিবিয়ে খান। কয়েকটি ফলের বাইরের অংশে প্রচুর ফাইবার থাকে। সেসব ফল খোসা না ছাড়িয়ে গোটা খান। যেমন, শসা, আপেল, পেয়ারা ইত্যাদি। তবে পেটের সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত ফাইবার এড়িয়ে চলতে হবে। তাই আইবিএস বা পেটের গোলযোগ বেশি হলে ফলের খোসা ছাড়িয়ে খাবেন। বাড়ির সবচেয়ে খুদেটির হয়তো এখনও দাঁতই গজায়নি। তাই ফলের রস করে খাওয়ালে ক্ষতি নেই। তবে রস খোলা হাওয়ায় বেশিক্ষণ ফেলে রাখবেন না। রস করার পরই খাইয়ে দিন। শিশু একটু বড় হলে তাকে অবশ্যই ফল চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করান। আজকাল নানা সংস্থা তাদের ফলের রসের টেট্রা প্যাকে বাড়তি ফাইবার যোগ করার দাবি করে। কিন্তু এসব রসে প্রিজারভেটিভের পাশাপাশি অতিরিক্ত নুন ও চিনিও মেশানো থাকে। তাই প্যাকেটজাত ফলের রস এড়িয়ে চলাই ভালো। বরং ফল কিনে ভালো করে ধুয়ে খান। গোটা ফলের ফাইবার হজম করতে শরীরকে বেশি ক্যালোরি পোড়াতে হয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া ফলের ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। ফলের রসে এমন উপকার মেলে না। এতে ক্যালোরির পরিমাণও বেশি। ফল যেকোনো সময় খাওয়া যায়। খালিপেটেও ফল খেতে সমস্যা নেই। বরং বড় মিলের আগে একটি ফল খান। তাতে পেট কিছুটা ভরে, ফলে ক্ষুধার্ত অবস্থায় অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। অনেকের খালিপেটে ফল খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে। সে ক্ষেত্রে ফল খাওয়ার আগে সামান্য কিছু খেয়ে নিন।-ইন্টারনেট
পূর্বকোণ/মিফতা



















