সুস্থ ও ঝকঝকে দাঁত মানেই কি মুখের ভিতরের পুরো স্বাস্থ্য ঠিক থাকা? সাধারণ ধারণা বলে, দু’বেলা ব্রাশ করা, মাউথওয়াশ ব্যবহার বা স্কেলিং করাই শেষ কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা একদম ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আমাদের মুখের ভিতরে দাঁত, মাড়ি, জিভ ও লালাগ্রন্থিতে প্রায় ৭০০ প্রজাতির অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া বাস করে। ঠিক অন্ত্রের মতো মুখগহ্বরেও চলেছে ক্ষতিকর ও উপকারী ব্যাকটেরিয়ার নিরন্তর যুদ্ধ। এই ‘ভালো’ জীবাণুদের বাঁচিয়ে রাখার ওপরই নির্ভর করে মানুষের সার্বিক সুস্থতা।
ক্ষতিকর জীবাণুর ভয়াবহ প্রভাব
মুখের ভিতরে ‘ ভেইলোনেল্লা’, ‘অ্যাকটিনোমাইসিস’ কিংবা ‘নিসেরিয়া’র মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে গেলেই দন্তক্ষয় ও ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ে। এতে বংশবৃদ্ধি ঘটে ‘পরফাইরোমোনাস জিঞ্জিভালিস’ ও ‘প্রিভোটেলা ইন্টারমিডিয়া’র মতো মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার। এরা কেবল মাড়িতে সংক্রমণ ঘটায় না, রক্ত ও লালার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে পুরো শরীরে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব জীবাণু হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কোলন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, ‘স্ট্রেপ্টোকক্কাস মিউট্যান্স’ নামের ব্যাকটেরিয়া এমন এক উৎসেচক তৈরি করে, যা স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে কোষের ক্ষতি করে। ফলে অবসাদ, বিষণ্ণতা ও অ্যালঝাইমার্সের মতো গুরুতর মস্তিষ্কের রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
উপকারী জীবাণু বাঁচানোর উপায়
পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, সুস্থ থাকতে হলে এই খারাপ অণুজীব ধ্বংসকারী উপকারী জীবাণুদের পুষ্টি জোগাতে হবে। তার জন্য কেবল ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস।
যে খাবারগুলো খাবেন:
সবুজ শাকসবজি: পালং বা মুলোশাকে থাকা নাইট্রেট গ্রহণ করে ‘নিসেরিয়া’ ব্যাকটেরিয়া তা নাইট্রিক এসিডে রূপান্তর করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
রসুন ও মধু: রসুনের ‘এলিসিন’ ও মধুর ‘পলিফেনল’ মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করে এবং প্লাক জমতে দেয় না।
চা ও পনির: চা ক্ষতিকর প্লাক প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে পনির চিবোলে লালা নিঃসৃত হয়ে মুখের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় থাকে।
মজানো খাবার: প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার মুখগহ্বরের অণুজীবের ভারসাম্য রক্ষা করে।
যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন:
প্রক্রিয়াজাত চিনি, মিষ্টি পানীয়, সাদা পাউরুটি, বিস্কুট ও আঠালো খাবার ক্ষতিকর জীবাণুদের প্রিয় খাবার। অতিরিক্ত রেড মিট খেলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে। এছাড়া ঘন ঘন চা-কফি খাওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত।
পূর্বকোণ/মিফতা



















