চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু, ডব্লিউএইচও’র সতর্কবার্তা

ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু, ডব্লিউএইচও’র সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৮:২৩ অপরাহ্ণ

দেশে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ পেরিয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ২২ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ১০৪ জন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর ওই দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন রোগী।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত আট বছরে ডেঙ্গু অনেক বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ রোগে মারা গিয়েছিলেন ২৯৬ জন। কিন্তু এরপরের ৭ বছর ৯ মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৬৬ জনে। একই সময়ে সরকারি হিসাবে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন, যেখানে আগের প্রায় ১৮ বছরে এ সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার ২০৮।

 

 

অর্থাৎ, আগের দেড় যুগের তুলনায় সাম্প্রতিক ৭ বছর ৯ মাসে মৃত্যু বেড়েছে ১১.৭১ গুণ এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১৫.৬৬ গুণ।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, আক্রান্তদের প্রকৃত সংখ্যা নথিভুক্ত না হওয়া, হাসপাতালে দেরিতে ভর্তি হওয়া এবং একই ব্যক্তির বারবার সংক্রমিত হওয়া।

 

 

তাঁরা বলছেন, এডিস মশা বাংলাদেশের বদলে যাওয়া পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। তাই ডেঙ্গুকে আর শুধু মৌসুমি রোগ ভাবার সুযোগ নেই। সামান্য জমে থাকা পানি, এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রেও এ মশা বংশবিস্তার করতে পারে। রোগটি এখন শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নয়, ধীরে ধীরে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও পুনঃসংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। একজন মানুষ একাধিকবার আক্রান্ত হতে পারেন, আর যেসব জনগোষ্ঠীতে আগে সংক্রমণ প্রায় ছিলই না, সেখানেও এখন রোগী মিলছে।

 

 

 

 

এদিকে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে দ্রুত রোগ শনাক্ত হলে এবং সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসা পেলে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, জ্বরের পর তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা ও অস্থিরতা দেখা দিলে তা গুরুতর অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে দেরি না করে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি, কারণ এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, মশারি ও মশা তাড়ানোর ক্রিম ব্যবহার এবং সম্মিলিতভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর জোর দিয়েছে ডব্লিউএইচও।

 

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই সমাধানের জন্য স্বল্পমেয়াদি অভিযানের বদলে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জনসম্পৃক্ত জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি নেওয়া জরুরি।

 

পূর্বকোণ/আদর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট