চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

আজ ২৫ বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী। বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রষ্ঠে প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালি অস্তিত্বরে শিকড়।

আজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী

তৈয়বা জহির আরশি

৮ মে, ২০২৬ | ৮:০০ পূর্বাহ্ণ

আজ ২৫ বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, দার্শনিক, চিত্রশিল্পী, সুরকার, গীতিকার, গায়ক, অভিনেতা, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক। তিনি বাঙালির মানসপটে সর্বদা বিরাজমান। সংকটে তাঁর বাণী অতীতের মতো এখনো প্রেরণার উৎস। সত্যের পথে চলতে, অন্যায়ের প্রতিবাদে কেউ পাশে না থাকলেও অভীষ্ট লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে একাই এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগান তিনি। বাঙালির ভাষা ও সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, মন-মানসিকতা বিকাশে রবীন্দ্রনাথের গৌরবোজ্জ্বল অবদানের প্রতি বাঙালি আজন্ম ঋণী।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৬১ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মা সারদাসুন্দরী দেবীর চতুর্দশ সন্তান ছিলেন তিনি। শৈশবে রবীন্দ্রনাথ কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্ম্যাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু বিদ্যালয়-শিক্ষায় তাঁর মন না বসায় বাড়িতেই গৃহশিক্ষক রেখে তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন রবীন্দ্রনাথ ।

শৈশব থেকেই তিনি ঠাকুর পরিবারের উচ্চতর সাংস্কৃতিক ও মানবিক মূল্যবোধে পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। সেই সময়ের বহু জ্ঞানী, গুণী, খ্যাতিমান মানুষের সাহচর্য লাভ করেন। জমিদারির কাজ পরিচালনার জন্য পূর্ব বাংলার পল্লি এলাকায় তাঁর পদচারণা, প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নৌকায় নদীপথের দীর্ঘ যাত্রা প্রকৃতি সম্পর্কে তাঁর মনে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে। পূর্ববঙ্গের মানুষ, প্রকৃতি, পরিবেশ, জীবনদর্শনসহ বিভিন্ন অনুষঙ্গ পরবর্তীকালে তাঁর রচনায় বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় উদ্ভাসিত হয়েছে।

সাহিত্যকর্ম ছাড়াও চিত্রকলায় অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। নতুন ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়। প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে গভীর ভাবনা ছিল, তিনি ক্ষুদ্র‌ঋণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এসব কর্মপ্রবাহের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রত্যক্ষভাবে সমাজ ও জনকল্যাণের কাজে সরাসরি যুক্ত থেকেছেন। কবি বলেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত হলেও তার প্রতিভা যে বিচিত্র ধারায় প্রবাহিত হয়েছে, তা সবারই জানা।

তিনি তাঁর গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসভায় উপস্থাপিত করেন এবং বিশ্বকবি মর্যাদা লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা, যা বিশ্বে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। ১৯১৫ সালে ব্রটিশি সরকার তাঁকে নাইটহুড উপাধি (স্যার) দেয়। তবে, ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিলে সংঘটিত নৃশংস জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডরে প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রটিশি সরকার প্রদত্ত ‘নাইটহুড’ (স্যার) উপাধি বর্জন করেন। যা, তাঁর দেশপ্রেম ও মানবিক বোধ্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কবিগুরুর জন্মদিন ‘রবীন্দ্রজয়ন্তী’ উপলক্ষে থাকছে নানা আয়োজন ।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট