আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। প্রথম দিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমে ‘কোরআন মাজিদ’ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) ‘বাংলা-২’ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সব বোর্ডের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। তবে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
পরীক্ষায় সুষ্ঠু, ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা বোর্ড থেকে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং আসন বিন্যাসে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক থাকবেন। কোনো কক্ষে ২ জনের কম পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
৫ বাই ৬ ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে সর্বোচ্চ ২ জন এবং ৪ ফুটের বেঞ্চে ১ জন করে পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন। পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে বিশেষ কারণে কেউ দেরি করলে তার তথ্য রেজিস্টারে লিখে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগে থেকে ট্রেজারি বা থানার লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের কড়া পাহারায় কেন্দ্রে নেওয়া হবে।
পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত ‘সেট কোড’ পাওয়ার পরই কেবল প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। এর বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বছর পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব কেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড ও ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর ইতিমধ্যে বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে।
সার্বক্ষণিক সিসিটিভির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরাও অ্যানালগ বা কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া কোনো ডিজিটাল ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবেন না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
পূর্বকোণ/রাকিব
















