দেশে গত প্রায় বিশ বছরের মধ্যে টানা দ্বিতীয়বার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিগত এক দশক যেখানে গড় পাসের হার ৮০ শতাংশের উপরে ছিল, ২০২৬ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬২.২৫ শতাংশে। পাসের হারের এই ভয়াবহ নিম্নগতি সরাসরি প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে, যেখানে অর্ধেকের বেশি আসনই খালি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আসন সংখ্যা ও শিক্ষার্থীর বৈষম্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি আসন রয়েছে। এর বিপরীতে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। ফলে উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী যদি ভর্তিও হয়, তবুও প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ আসন ফাঁকা থাকবে। গত বছর যেখানে আসন খালি ছিল ৪১.৩ শতাংশ, এবার সেই সংখ্যা আরও বাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সংকটে মফস্বল ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের পাসের হার কমে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে মফস্বলের কম উন্নত কলেজ, বেসরকারি, এমপিওভুক্ত এবং নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। সাধারণত ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির চাপ থাকলেও নিম্নমানের বা পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে। বিশেষ করে যে সব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বেতন ও ফি দিয়ে পরিচালিত হয়, শিক্ষার্থী সংকটে তাদের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে শিক্ষার মানের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের পাসের হার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে [৪]। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৩.০৪%, যা ২০২৫ সালে ৬৮.৪৫% এবং ২০২৬ সালে আরও কমে ৬২.২৫% হয়েছে। এ বছর শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার। শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, নবম ও দশম শ্রেণিতে ভিন্ন সিলেবাস ও কারিকুলাম, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নকল প্রতিরোধে বাড়তি কড়াকড়ির ফলে শিক্ষার্থীদের মনে তৈরি হওয়া ভয় এই নেতিবাচক ফলাফলের অন্যতম কারণ।
ভর্তির প্রক্রিয়া বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, এবারও কোনো ভর্তি পরীক্ষা বা লটারি হবে না। গত বছরের মতো অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে জিপিএ এবং শিক্ষার্থীদের পছন্দের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করানো হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজের পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। খুব শীঘ্রই ভর্তির আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ















