চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে (সিআইইউ) প্রবীণ হিতৈষী ফোরাম ‘খোলা হাওয়া’র চতুর্থ আবর্তন ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিআইইউ এর ইংরেজি বিভাগ ও ‘খোলা হাওয়া’র যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন ও প্রবীণের হৃদ্যতাপূর্ণ মিলনমেলায় গল্প, আড্ডা, সংগীত, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। এ সময় সমাজের বিভিন্ন স্তরের নবীন-প্রবীণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আসমা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘খোলা হাওয়া’র সদস্য ড. সাহানা বেগম।
সিআইইউ’র স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক ড. খালেদ বিন চৌধুরী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
এ সময় একুশে পদকপ্রাপ্ত বংশীবাদক ওস্তাদ আজিজুল ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ‘খোলা হাওয়া’র আহ্বায়ক সৈয়দা সৈয়দুন্নেছা।
সাংস্কৃতিক পর্বে মোহনীয় বাঁশির সুরে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম।
সংগীত পরিবেশন করেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জিনান সরোয়ার ও ফায়হা মুনীর এবং ‘খোলা হাওয়া’র সদস্য মাহমুদুল হায়দার, মানু মজুমদার ও আজিজুল হকসহ অনেকে। একক নৃত্য পরিবেশন করেন পুস্পিতা বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি, লেখক ও সাংবাদিক খালিদ হাসানের সর্বশেষ লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন তাঁর স্ত্রী আইভি হাসান। আবৃত্তিশিল্পী সেলিম রেজা সাগরের মনোমুগ্ধকর আবৃত্তি দর্শকদের বিমোহিত করে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল- সন্তান ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সম্পর্ক, বোঝাপড়া ও মূল্যবোধ নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা পর্ব।
এতে অংশ নেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নিঝুম বড়ুয়া, মালিহা আবিদা, হুমায়রা ইয়াসমিন, তৌহিদ ও নাসরিন। আলোচনায় তরুণ প্রজন্ম নিজেদের চিন্তা, অনুভূতি ও মতামতের গুরুত্ব তুলে ধরে।
অন্যদিকে প্রবীণ সদস্যরা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে সন্তান-অভিভাবকদের সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেন। আন্তরিক এ আলোচনা পর্বে প্রজন্মের ভিন্নতা পেরিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার এক হৃদয়ছোঁয়া পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
‘খোলা হাওয়া’র আহ্বায়ক সৈয়দা সৈয়দুন্নেছা জানান, সমাজে নবীন ও প্রবীণের মধ্যে আন্তরিক যোগাযোগ ও মানবিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই এ ধরনের আয়োজন। তাঁর মতে, পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
পূর্বকোণ/এএইচ
















