বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে স্পেনকে শিরোপা জিতিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তরুণ স্ট্রাইকার লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ, ম্যাচ পড়ার দক্ষতা এবং অসাধারণ ফিটনেস ফুটবলবিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, এত অল্প বয়সে কীভাবে নিজেকে এমন দুর্দান্ত ছন্দে রেখেছেন তিনি?
কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি ইয়ামালের খাদ্যাভ্যাসও যে তার পারফরম্যান্সের বড় একটি অংশ, সেটিই এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কয়েক বছর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তিনি একটি নির্দিষ্ট খাবার খেতে ভালোবাসেন। সেটি হলো ভাত, মুরগির মাংস এবং চিনাবাদামের সস। এই খাবার শুধু তার প্রিয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শৈশব, পরিবার এবং মায়ের ভালোবাসার স্মৃতি।
মায়ের হাতের রান্নাই ম্যাচের আগে ভরসা
ইয়ামালের মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বাসিন্দা। সেই দেশের জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার হলো ভাতের সঙ্গে মুরগি ও চিনাবাদামের সস। ছোটবেলা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বা টুর্নামেন্টের আগে তার মা এই খাবার রান্না করে দিতেন।
ইয়ামাল এক সাক্ষাৎকারে জানান, খেলার আগে মা সবসময় এটা বানিয়ে দিতেন। এই খাবার আমাকে শক্তি জোগায়। এখনো সেই অভ্যাস বদলায়নি। আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগেও সুযোগ পেলেই তিনি এই পরিচিত খাবারই বেছে নেন।
কেন এই খাবার এত উপকারী?
পুষ্টিবিদদের মতে, ইয়ামালের প্রিয় এই খাবারের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ। এটি একই সঙ্গে শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং পেশি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
ভাতে থাকা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। ফলে পুরো ম্যাচজুড়ে শরীরে এনার্জির ঘাটতি হয় না। ফুটবলের মতো উচ্চমাত্রার শারীরিক পরিশ্রমের খেলায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, মুরগির মাংস উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস। এটি পেশি গঠন, অনুশীলনের পর ক্ষয় হওয়া মাংসপেশির পুনর্গঠন এবং শরীরের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিনাবাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাসসহ নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি জোগায়, আর ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস পেশি ও হাড়কে শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে। ফলে একই প্লেট খাবার থেকেই একজন ফুটবলার প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির সুষম সমন্বয় পেয়ে যান।
শুধু ফুটবলার নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও উপকারী
পুষ্টিবিদদের মতে, ইয়ামালের এই খাদ্যাভ্যাস শুধু পেশাদার ক্রীড়াবিদদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের উদাহরণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন বা দীর্ঘ সময় কর্মব্যস্ত থাকেন, তাদের জন্যও এই ধরনের খাবার উপকারী।
তবে খাবারের পরিমাণ অবশ্যই বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
বিশ্বকাপ জয়ী লামিন ইয়ামালের গল্প মনে করিয়ে দেয়, একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্যের পেছনে শুধু অনুশীলন নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কখনও কখনও মায়ের হাতের পরিচিত একটি খাবারই হয়ে উঠতে পারে বিশ্বজয়ের শক্তির উৎস।
সূত্র: মার্কা, ওলা, ইন্ডিয়া টুডে
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ















