চট্টগ্রাম বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন

১৫ জুলাই, ২০২৬ | ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ

টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগ ছিল ফ্রান্সের। আর সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণ স্পেনের। ডালাসে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এই দুই শক্তির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হলো রক্ষণ ও দলগত ফুটবলের। কিলিয়ান এমবাপ্পে-ওসমান দেম্বেলে-মাইকেল ওলিসেদের তারকাখচিত আক্রমণভাগকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। দুই প্রান্ত ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে ফরাসি রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই চাপের ফল আসে ২২ মিনিটে। ডি-বক্সে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট-কিক থেকে কোনো ভুল করেননি অধিনায়ক মিকেল ওইয়ারসাবাল। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।

 

গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স। তবে মাঝমাঠে রদ্রির নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে পাউ কুবারসির দৃঢ়তায় কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি দিদিয়ের দেশমের দল। প্রথমার্ধে একটিও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি এমবাপ্পেরা।

 

বিরতির পরও একই চিত্র। ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় স্পেন।

 

৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল আরও একবার বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্প্যানিশরা।

 

অন্যদিকে, ম্যাচজুড়ে নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পুরো টুর্নামেন্টে ১১ গোলে অবদান রাখা ফরাসি অধিনায়ক এদিন তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ৮৬ মিনিটে দেখেন হলুদ কার্ডও। ফরাসি আক্রমণের অন্যতম ভরসা মাইকেল ওলিসেকেও কার্যত বোতলবন্দী করে রাখে স্প্যানিশ মিডফিল্ড। ম্যাচে ২০ বার বলের দখল হারানোর পর ৭২ মিনিটে তাকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ দিদিয়ের দেশম।

 

মাঝমাঠে রদ্রি ছিলেন অসাধারণ। ম্যাচে সর্বোচ্চ ১১টি ডুয়েল জেতার পাশাপাশি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯টি সফল পাস দেন তিনি। রক্ষণে পাউ কুবারসির দৃঢ় উপস্থিতিও স্পেনকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। দলগত প্রেসিং ও নিখুঁত অবস্থান নেওয়ার কারণে ফ্রান্সের ৪৮৮টি পাসের মধ্যে ৯৩টিই ভুল হয়েছে। ১৮টি ক্রস থেকে সফল হতে পেরেছে মাত্র চারবার।

 

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ইতিহাসও ফ্রান্সের বিপক্ষে ছিল। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর নজির খুবই কম। ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনা এবং ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়া ছাড়া আর কোনো দল এমন কীর্তি গড়তে পারেনি। সেই ইতিহাস বদলাতে পারেনি দেশমের শিষ্যরাও।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফ্রান্সও ছিল দুর্দান্ত। তবে সাম্প্রতিক সময়ের মতো এবারও বড় ম্যাচে স্পেনের সামনে হার মানতে হলো ফরাসিদের। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক, ২০২৪ ইউরো এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালের পর এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও স্পেনের কাছে পরাজিত হলো ফ্রান্স।

 

এই জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ীর। অন্যদিকে, ফাইনালে টানা তৃতীয়বার ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হবে ফ্রান্সকে। সেই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট