চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

কেটি পেরি, ব্ল্যাকপিংকের সঙ্গে বিশ্বকাপ উদ্বোধনে বাংলাদেশের সঞ্জয়

কেটি পেরি, ব্ল্যাকপিংকের সঙ্গে বিশ্বকাপ উদ্বোধনে বাংলাদেশের সঞ্জয়

অনলাইন ডেস্ক

১০ মে, ২০২৬ | ৮:১০ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপ ফুটবলের সবুজ ঘাসে লাল-সবুজের জার্সি দেখার স্বপ্ন ১৬ কোটি বাঙালির । মাঠের সেই লড়াইয়ে বাংলাদেশ এখনও পৌঁছাতে না পারলেও, ২০২৬ সালের জুনে যখন সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ থাকবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে, সেখানে সগৌরবে ধ্বনিত হবে সঞ্জয় দেবের নাম। সিলেটের শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান আর চট্টগ্রামের ‘লাভ লেন’ এলাকায় শৈশব কাটানো এক লড়াকু তরুণ, যিনি এখন বিশ্বজয়ের মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত।

মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে বসতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের বৃহত্তম আসর। এই বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী আয়োজনে মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি এবং ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসার মতো বিশ্ববরেণ্য শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও মিউজিক প্রোডিউসার সঞ্জয় দেব। ফিফা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তাকে এই বিরল গৌরবের জন্য চূড়ান্ত করেছে, যা সঞ্জয়ের কাছে এক ‘অবিশ্বাস্য অনুভূতি’।

সুরের সেই যাত্রা সঞ্জয়ের এই বিশ্বমঞ্চে ওঠার গল্পটা সিনেমার মতো। জন্ম সিলেটে হলেও তার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের সংস্কৃতিমনা পরিবেশে। মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে পাড়ি জমান আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে । সেখানে তার মা মিতা দেবের গান আর নানিদের অনুপ্রেরণায় সুরের জগতে হাতেখড়ি। মা যখন গাইতেন, ছোট্ট সঞ্জয় তখন তবলায় তাল ধরতেন । প্রবাসে মা-বাবার কঠোর পরিশ্রম আর অনিশ্চিত সংগীতাঙ্গনে নিজের জেদ সঞ্জয়কে আজ এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে ।

বিশ্বমঞ্চে বাংলার জয়গান আগামী ১১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে এবং টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে আয়োজিত পৃথক দুটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন সঞ্জয় । টরন্টোতে তিনি মঞ্চ মাতাবেন মাইকেল বুবলে ও অ্যালানিস মরিসেটের মতো তারকাদের সঙ্গে । আর লস অ্যাঞ্জেলেসে কেটি পেরির সাথে তার পারফরম্যান্সকে ফিফা একটি ‘উচ্চ-শক্তির মহোৎসব’ হিসেবে অভিহিত করেছে ।

সঞ্জয় জানান, এই সাফল্য কেবল তার একা নয়, বরং বিশ্বের বুকে থাকা প্রতিটি বাঙালির জন্য গর্বের । তার ভাষায়, “আমার লক্ষ্য থাকবে বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের সংস্কৃতিকে এমনভাবে তুলে ধরা, যাতে সবাই বাংলার সৌন্দর্য দেখতে পায়”।

 নিউইয়র্ক টাইমস তাকে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত দক্ষিণ এশীয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে । তবে সঞ্জয়ের চোখে এটি কেবল শুরু। মাঠে ফুটবল না থাকলেও, উদ্বোধনী মঞ্চে এক বাঙালির ছন্দময় উপস্থিতি প্রমাণ করবে, শিল্প আর সংস্কৃতির হাত ধরে বাংলাদেশ ঠিকই পৌঁছে গেছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে।

১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই আসরের, কিন্তু তার আগেই এক বাঙালির সুরের মূর্ছনায় ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।

পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট