ফিশিং জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন রফিকুল ইসলাম। তবে চলতি বছরের শুরুর মার্চে হঠাৎ স্ট্রোক আক্রান্ত হন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকধীন অবস্থায় শেষ মারা যান এই দক্ষ মেরিনার। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে পুরো পরিবারটি যেন অথৈ সাগরে এসে পড়ে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি হয় তার স্ত্রী ও সন্তানরা।
বিপদের এই চরম মুহূর্তে অসহায় পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ডিপ সী ফিশিং মেরিনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সংগঠনের কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত সভার মাধ্যমে প্রয়াত রফিকুল ইসলামের পরিবারের হাতে নগদ ৮০,০০০ টাকা আর্থিক অনুদান হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার বিষয়টি অবগত হয়ে সংগঠনের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই মানবিক সহায়তা প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনুদান প্রদান ও মতবিনিময় সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন- সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক, উপদেষ্টা মো. মুজিবুর রহমান খান, অর্থ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুমন মাহমুদ ফিরোজ, কার্যকরী সদস্য মো. আল আমিন, সদস্য মো. রেজারুল করিম মিল্লাত এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদুল ইসলাম। উপস্থিত থেকে অনুদান গ্রহণ করেন প্রয়াত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মোছাম্মৎ নারগিস বেগম ও তাদের কন্যা রাভীনা।
অনুদান হস্তান্তরকালে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের সদস্যদের যেকোনো বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ফিশিং জাহাজের একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে রফিকুল ইসলামের অবদান আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। তার প্রয়াণে পরিবারটি যে সংকটে পড়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। ভবিষ্যতেও সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ধরণের মানবিক ও কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ‘ডিপ সী ফিশিং মেরিনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ দীর্ঘদিন ধরে মেরিনারদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন এবং তাদের পরিবারের কল্যাণে কাজ করে আসছে।
পূর্বকোণ/রাকিব/এএইচ















