চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লংমার্চে বাধা এলে লড়াই করেই গন্তব্যে পৌঁছাব: ডা. শফিকুর রহমান

লংমার্চে বাধা এলে লড়াই করেই গন্তব্যে পৌঁছাব: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১২:০৫ অপরাহ্ণ

জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চে কোনো বাধা এলে তা মোকাবিলা করেই গন্তব্যে পৌঁছানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

 

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। লংমার্চটির আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। জনগণের দাবি আদায়ের জন্যই আমাদের এই কর্মসূচি।

 

দেশের জনগণ বিভিন্ন সংকটে অতিষ্ঠ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নেই, পানি নেই, ইলেকট্রিসিটি নেই, কিন্তু গ্যাসের বিল যথারীতি আছে। কারেন্টের ভূতুড়ে বিল আছে।

 

সিফাত নামে এক তরুণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতিষ্ঠ হয়ে ওই তরুণ প্রতিবাদ করেছেন। তার মুখের ভাষা সমর্থন না করলেও যে বিষয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছেন, সেই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জে উঠবে।

 

সিফাতকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ওরে ছেড়ে দেন, ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদি উলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, তা কেউ বলতে পারে না।

 

লংমার্চ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের অঙ্গীকার পূরণ করতেই এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কর্মসূচির ‘ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া’ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আপনারা বলছেন এই করলে, সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।

 

চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ শুরুর আগে তিনি বলেন, গন্তব্যের পথে বাধা আসলে আমরা লড়াই করতেই নেমেছি। জনগণের অধিকারের জন্য আমরা আমাদের গন্তব্যে ইনশাআল্লাহ পৌঁছব, কোনো বাধাকেই আমরা পরোয়া করব না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়-রাজপথে, চলবে জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে এই আন্দোলন চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হয়।

 

শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে, দৃঢ় কদমে, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে সামনে এগিয়ে যাব এবং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার এবং দাবি আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এদিন সকাল ৭টার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়ায়াতরে মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

 

উল্লেখ্য, লংমার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্টান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মিরসরাইয়ে এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট