মাদারীপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে গুরুতর ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন। অসুস্থদের মধ্যে একই পরিবারের চারজনসহ মোট ১৬ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে সুমাইয়া আক্তার (১৭) ও মিম আক্তার (১৫) নামের দুই কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এসব রোগীরা ভর্তি হন।
এ ঘটনায় দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোগীদের অভিযোগ, শহরের আরএফসি রেস্টুরেন্টের অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
অসুস্থ রোগীরা হলেন- মাদারীপুর শহরের ১ নম্বর শকুনি এলাকার হাফসা আক্তার (১৮), জান্নাত (১২), ফাতেমা বেগম (১৪), জেসমিন আক্তার (৩৫), পুরানবাজার এলাকার কুতুবউদ্দিন (৪৫), রোকসানা বেগম (৪০), নাবিল মাহামুদ (১১), পাঁচখোলা এলাকার রাবিক হোসেন (২২), তালতলা এলাকার ইব্রাহীম (১৮), ঘটমাঝি এলাকার তানিয়া (২৩), শরীফবাড়ি এলাকার লুবনা আক্তার (২৫), পূর্ব রাস্তি এলাকার আমির হাওলাদার (৯), চর কালিকাপুর এলাকার শাওন ঘরামী (১৮) ও শরীয়তপুরের মাতালমার ব্রিজ এলাকার সাইফ হোসেন (১৫)।
জানা গেছে, পুরানবাজার এলাকায় অবস্থিত আরএফসি রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন ক্রেতা। পরে রাত ৯টা থেকে পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসতে থাকে।
শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। তাদের অভিযোগ, আরএফসি রেস্টুরেন্টের অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তারা এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অসুস্থ শিশু আমির হাওলাদারের মা কবিতা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে আরএফসি থেকে নান রুটি ও গ্রিল খেয়েছে। তারপর থেকেই খুব অসুস্থ। ১০ বার বমি করেছে। অনেকবার টয়েলেটে গেছে। ছেলেটার অবস্থা ভালো না’।
তালতলা এলাকার রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার একইবাড়ির চারজন ডায়রিয়াতে আক্রান্ত। তারা চারজনই গতকাল আরএফসিতে খাবার খেয়েছিল। তারপর থেকে বমি আর পাতলা পায়খানা। সবাইকে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হইছে। নিরাপদ খাদ্য আদালত ও অধিদপ্তরের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে আরএফসি রেস্টুরেন্টের মালিক রাহাত ব্যাপারী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি নিজে হাসপাতালে ছুটে গেছি। তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নেব। আমার রেস্টুরেন্টের খাবারে কোন ত্রুটি ছিল কিনা জানি না। তবে আমরা এরপর থেকে আরও সর্তক হয়ে খাবার পরিবেশন করবো।’
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, ‘ফুড পয়জনিং নিয়ে হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে যারা ভর্তি হয়েছে, তারা বেশির ভাগই রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর মাদারীপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান,‘অসুস্থ রোগীরা এখনো আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারা অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তারপরেও বিষয়টি আমরা নজরদারি করবো। এ বিষয় আমরা ওই রেস্টুরেন্ট পরিদর্শনে যাবো। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ

















