চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

গণঅভ্যুত্থান দিবসের ডকুমেন্টারিতে অবু সাঈদ নাই, আক্ষেপ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির

গণঅভ্যুত্থান দিবসের ডকুমেন্টারিতে অবু সাঈদ নাই, আক্ষেপ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির

অনলাইন ডেস্ক

৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানের নানা অসংগতি তুলে ধরেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের শুরুতে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

 

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকৃতপক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছি। আজ এই অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান, জুলাই যোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার জন্যই, রাষ্ট্র এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কিন্তু যে দৃশ্য এখানে দেখলাম, সেটিতেই অত্যন্ত দুঃখিত এবং লজ্জিত হয়েছি, ব্যথিত হয়েছি।

 

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সকালটা ভালোই কেটেছিল টেলিভিশনে দেখেছি। জুলাই জাদুঘর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ছিলেন। জুলাই যোদ্ধাদের একটি মিলনমেলা দেখতে পেয়েছিলাম সকালে। জাতীয় ঐক্য সহজেই প্রতিভাত হয়েছিল। কিন্তু বিকালের এই অনুষ্ঠানটিতে যা দেখলাম এটি একেবারেই অনভিপ্রেত। জাতীয় অনুষ্ঠানে আমরা তো জাতীয় ঐক্যের কোনও বহিঃপ্রকাশ দেখাতে পারলাম না। ভুল তো মানুষ করেই। নিশ্চয়ই এখানে ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল আছে। প্রথম ভুল আমি যে দেখেছি, সেখানে তো আবু সাঈদের ছবিই নাই। আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবির প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এর কোনও ডকুমেন্টারি হলো না। সেখানে আরও নাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও তো নাই।

 

তিনি বলেন, সুতরাং কিছু ভুল হয়েছে এবং এই ভুল মন্ত্রী জোর হাতে স্বীকার করেছেন। ক্ষমা চেয়েছেন বারংবার ক্ষমা চেয়েছেন। তারপর তো শান্ত হওয়া উচিত এ ধরনের একটা জাতীয় অনুষ্ঠানে সংসদের মতো একটা ওয়াকআউট এটি বাঞ্ছনীয় নয়। আমি লক্ষ্য করেছি, সংসদ সদস্য আখতার তার অনুসারীদের প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের নেতাকে তো মানে না সহজে অনুসারীরা। প্রতি মুহূর্তেই তারা যে নেতার চেয়ে বড়, এটা প্রমাণ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকে। সেই কারণেই এ ধরনের একটা অনুষ্ঠানের এই পরিণতি হলো। এখানে যারা বিদেশি বসা ছিল আমি মনে মনে চিন্তা করছিলাম যে, ইংরেজিতেই ভাষণ দেবো। বিদেশিরা দেখুক, ১৬ বছর আমরা কীভাবে কাটিয়েছি। কিন্তু তারা তো চলেই গিয়েছে। যাই হোক, জাতীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য ছিল না।

 

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা তো জনগণের ভোট নিয়ে এখানে এসেছি। নির্বাচিত প্রতিনিধি আমরা, হাওয়া থেকে উড়ে এসে বসি নাই এখানে। সুতরাং এই সরকার নির্বাচিত একটি সরকার, এটুকু শ্রদ্ধা সম্মান প্রাপ্তি, ভুল তো আমরা করি। হয়তো সামনে আরও ভুল করবো। সেই ভুল করলে তার জন্য মাসুলও দেবো কিন্তু সবাই মিলে ভুল সংশোধন করতে চাই। সকালের অনুষ্ঠানটা একটা চমৎকার অনুষ্ঠান ছিল প্রফেসর ইউনূস নিচে বসেছিলেন, তাকে প্রধানমন্ত্রী ডেকে এনে সম্মান দেখিয়ে তার পাশে বসেছেন। এটাই তো আমরা কামনা করি। সবাইকে আমরা সম্মান করতে চাই। কাউকে অপমান করার চেষ্টা চাই না। এখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় কেউ ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কি এগুলো মানায়? কবে আমরা শিখবো? অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আরও বেদনার্ত হয়েছি।

 

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ এনে দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, একটি গণতান্ত্রিক ন্যায়ভিত্তিক দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবে। আজ আমরা একটি নতুন যাত্রার সূচনা পর্বে দাঁড়িয়ে আছি। এই যাত্রাপথ সহজ নয়। মতের ভিন্নতা থাকবে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের ঐক্য সংযম ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনও বিভাজন কোনও বিদ্বেষ বা সংকীর্ণ স্বার্থ আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করতে না পারে। আজ এই দৃশ্যটি একেবারেই অনভিপ্রেত ছিল। ভুল ত্রুটি তো হবেই মানুষের। সেটি আমরা সবাই মিলে শুধরে নেবো। কোনোকিছুই তো পারফেক্ট না। মানুষ তো ভুল করতেই পারে। কিন্তু এভাবে যে বিদেশি অতিথিদের সামনে নাস্তানাবুদ হলাম, এটি আমাকে খুবই ব্যথিত করেছে। এই ঘটনায় সবচাইতে খুশি হবেন যিনি পাশের দেশে বসে আছেন, তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

 

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট