একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ, শিক্ষা ও পরিবারের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে। কন্যাশিশুর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। তাদের প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে শৈশব থেকেই প্রয়োজন যথাযথ পরিচর্যা ও উৎসাহ।
অনেক সময় পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মেয়েরা নিজেদের ইচ্ছা ও মতামত প্রকাশের সুযোগ পায় না। অথচ তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং পছন্দের বিষয়ে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করা আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে।
কন্যাশিশুর সম্ভাবনা বিকাশে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার সমান সুযোগ, নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মেয়েরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা ভবিষ্যতের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ভিত্তি আজই
কন্যাশিশুর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং তাদের স্বপ্নপূরণে সহযোগিতা করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; এটি সামগ্রিক সমাজেরও দায়িত্ব। প্রতিটি মেয়ের আগ্রহ, মেধা ও সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করতে হবে। তার পরিচয় যেন সীমাবদ্ধতার মধ্যে আটকে না থাকে, বরং নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মেয়েদের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা ছাড়া একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। প্রতিটি কন্যাশিশু শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে বেড়ে উঠুক—এমন পরিবেশ তৈরির মধ্য দিয়েই দিবসটির তাৎপর্য বাস্তবে প্রতিফলিত হতে পারে।
পূর্বকোণ/পল্লবী



















