দ্রুত প্রস্তুত করা যায়—এমন খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় দেশে নুডলসের বাজারও ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এর ব্যবহার বেড়েছে। একসময় মূলত নাশতা হিসেবে খাওয়া হলেও বর্তমানে অনেক পরিবারের নিয়মিত খাবারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে নুডলস।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নুডলসের বাজারে প্রবৃদ্ধির পেছনে নতুন ভোক্তা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ক্রেতাদের ভোগের পরিমাণ বাড়ার বিষয়টিও ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে এ পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তরুণদের খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। একই স্বাদের খাবারে সীমাবদ্ধ না থেকে তারা নতুন ফ্লেভার, ঝাল ও ভিন্নধর্মী রান্নার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এই পরিবর্তিত রুচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বাজারে নতুন নতুন পণ্য আনছে।
বিশ্বখ্যাত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নেস্লে তাদের ‘ম্যাগি’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে এ ধরনের বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। তরুণদের পছন্দ বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি ‘হট অ্যান্ড স্পাইসি ব্লাস্ট’ ও ‘ফ্রায়েড চিকেন ফ্লেভারড নুডলস’-এর মতো নতুন পণ্য বাজারে এনেছে।
তবে নুডলস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে রয়েছে ব্যয় বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ। গম, পাম অয়েল ও প্যাকেজিং উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এর মধ্যেও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মান বজায় রেখে পণ্যের দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করছে নেস্লে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়।
নেস্লের মতে, নুডলসের বাজার সম্প্রসারণে প্রধান ভূমিকা রাখছে এর সহজলভ্যতা, দ্রুত প্রস্তুত করার সুবিধা ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী দাম। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খাবারের স্বাদ ও অতিরিক্ত ঝাল ফ্লেভারের প্রতি তরুণদের আগ্রহও বাজারকে এগিয়ে নিচ্ছে।
আগামী দিনে কোরিয়ান ধাঁচের ও ঝাল স্বাদের নুডলসের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে ‘ম্যাগি কোরিয়ান ক্রিমি অ্যান্ড স্পাইসি’ বাজারে এনে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়েছে নেস্লে। ভোক্তাদের পরিবর্তিত পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও নতুন পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
পূর্বকোণ/পল্লবী

















