চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

সুস্থ থাকতে জেন-জি’দের নতুন ধারা

সুস্থ থাকতে জেন-জি’দের নতুন ধারা

অনলাইন ডেস্ক

২ জুলাই, ২০২৬ | ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

ওজন কমানো বা শরীর গঠন নয়, জোর দেওয়া হচ্ছে শক্তিতে।

ফিটনেস বা ব্যায়াম বললেই একসময় চোখের সামনে ভেসে উঠতো জিরো ফিগার, ওজন কমানো কিংবা সিক্স-প্যাক অ্যাবস তৈরির তীব্র প্রতিযোগিতা।

 

 

তবে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম, যাদের ‘জেন-জি’ নামে ডাকা হয়, তারা এই চেনা সমীকরণটি পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।

 

 

এখন শুধু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরের আকার বা ওজন মাপছে না তারা; বরং নজর দিচ্ছে শারীরিক শক্তি, দম ধরে রাখা এবং মানসিক প্রশান্তির ওপর।

 

 

এস্থেটিক্স থেকে ফাংশনাল ফিটনেস

চিকন হওয়া বা পেশিবহুল শরীর তৈরির চেয়ে শরীর যাতে দৈনন্দিন কাজে শক্তি পায়, যাকে বলে ‘ফাংশনাল ফিটনেস’- সেটাই জেন-জি’র প্রথম পছন্দ।

 

 

হেলথলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নতুন প্রজন্ম জিমকে এখন আর কেবল ক্যালোরি বার্ন করার জায়গা মনে করে না। তারা এমন ব্যায়াম পছন্দ করছে যা মানসিক চাপ কমায় এবং হাড় ও পেশির কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

 

 

ওজন কমানোর চেয়ে তারা এখন কত বেশি ওজন তুলতে পারছে কিংবা কতক্ষণ একটানা দৌড়াতে পারছে, সেটিকে সফলতার মাপকাঠি ধরছে।

 

 

মানসিক স্বাস্থ্য ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিটনেস চেইন ‘অরেঞ্জথিওরি ফিটনেস’-এর প্রধান বিজ্ঞান কর্মকর্তা ডা. রাশায়েল রদ্রিগেজ ফোর্বস ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “জেন-জি’র কাছে ব্যায়ামের সংজ্ঞা আলাদা। তারা শুধুই ওজন কমানোর জন্য ঘাম ঝরায় না। জিম বা ফিটনেস সেশনগুলোকে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

 

 

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই সময়ে তরুণদের মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা অনেক বেশি। ব্যায়াম করার পর শরীরে যে এন্ডোরফিনস বা ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসরিত হয়, তা দিয়ে মেজাজ ফুরফুরে রাখাই এখন তরুণদের মূল লক্ষ্য।”

 

 

ডায়েটের ধারণা বদল: পুষ্টি বনাম উপোস

আগের প্রজন্মের মতো না খেয়ে ‘ক্রাশ ডায়েট’ করার ঘোর বিরোধী এই জেন-জি।

 

 

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী মেডিকেল নিউজ টুডে’তে প্রকাশিত নিউজিল্যান্ডের সুস্থতা-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘লেস মিলস’য়ের করা বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিবেদন ‘জেন জি ফিটনেস: ক্র্যাকিং দ্য কোড’-এর তথ্যানুসারে জানানো হয়, ‘বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সাপ্লিমেন্ট বা কঠোর ডায়েটের চেয়ে শরীরের ভেতরকার শক্তি বাড়াতে ঘরে তৈরি সুষম খাবার, প্রোটিন এবং প্রাকৃতিক পুষ্টির ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। তারা স্বাস্থ্য কমাতে খাবার বাদ দেওয়াকে বোকামি মনে করে। আর পেশির শক্তি বাড়াতে সঠিক পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখাকেই বুদ্ধিদীপ্ত ভাবছে।”

 

 

হাইব্রিড এবং গ্যামিফাইড ওয়ার্কআউট

যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’য়ে প্রকাশিত ‘জেন জি ফিটনেস প্লাস রিপোর্ট’- এর উল্লেখ করা হয়, জেন-জি একই ধরনের একঘেয়ে ব্যায়াম পছন্দ করে না। তারা স্বাস্থ্য রক্ষার সঙ্গে আনন্দ যোগ করতে চায়।

 

 

তাই তারা বিভিন্ন ‘ফিটনেস অ্যাপ’, ‘স্মার্টওয়াচ’ এবং গেইমসের সাহায্যে নিজেদের প্রতিদিনের কার্যক্রম নজরে রাখে।

 

 

ব্যায়ামাগারের চার দেয়ালের বদলে তারা বাইরে দৌড়াতে যাওয়া, সাইক্লিং, হাইকিং কিংবা নাচের, যেমন- জুম্বা করার মাধ্যমে শরীরকে সুস্থ ও চনমনে রাখছে।

 

 

বডি পজিটিভিটি এবং আত্মবিশ্বাস

কানাডিয়ান গণমাধ্যম সিটিভি নিউজ- এর সুস্থতা বিষয়ক প্রতিবেদনে, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি করা তথাকথিত পারফেক্ট বডি সাইজ- এর ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে জেন-জি।

 

 

তারা বডি পজিটিভিটি বা নিজের শরীরকে যেমন আছে তেমনভাবেই ভালোবাসতে শিখছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হল, শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী ও নীরোগ রাখা, যেন তারা দীর্ঘায়ু এবং একটি সুস্থ কর্মক্ষম জীবন পায়।

 

 

আসলে চাই সুস্থতা

ওজন মাপার মেশিনের কাঁটা কত কমলো, তা নিয়ে জেন-জি’র এখন আর কোনো মাথাব্যথা নেই। তাদের কাছে আসল ‘ফিটনেস’-এর মানে হলো ঘুম থেকে উঠে সতেজ বোধ করা, সারাদিন চনমনে বা এনার্জি ধরে রাখা এবং দিনশেষে একটি দুশ্চিন্তামুক্ত ঘুম।

 

পূর্বকোণ/রেহেনুমা নাসির

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট