চট্টগ্রাম শনিবার, ০২ মে, ২০২৬

সর্বশেষ:

আমিরাতকে ‘কঠোরভাবে লক্ষ্যবস্তু’ করার পরিকল্পনার কথা সৌদি ও ওমানকে জানিয়েছিল তেহরান

আমিরাতকে ‘ধ্বংসের’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২ মে, ২০২৬ | ৯:৫৩ অপরাহ্ণ

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘কঠোরভাবে লক্ষ্যবস্তু’ করার পরিকল্পনার কথা সৌদি আরব ও ওমানকে জানিয়েছিল তেহরান। আবুধাবির সঙ্গে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর দূরত্ব তৈরির স্পষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে ইরান এই পরিকল্পনা করেছিল। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এতে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় প্রতিবেশী বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। চলতি মাসে বিশ্বের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে আমিরাত বেরিয়ে যায়। ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রিয়াদ ও আবুধাবিকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে তাদের মাঝে যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, সেটি পরিষ্কার হয়ে উঠছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার এক পর্যায়ে ইরানি কর্মকর্তারা আমিরাতকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়ে সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন। এ সময় আবুধাবির সঙ্গে রিয়াদের মতবিরোধের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেন ইরানি কর্মকর্তারা।

 

তবে সৌদি ও ইরানের কর্মকর্তাদের মাঝে এই আলাপচারিতা কখন হয়েছিল তা জানা যায়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, সৌদি কর্মকর্তারা ইরানের এমন ভাষার ব্যবহারে অসম্মতি প্রকাশ করেন।

 

ইরানের প্রতি সৌদি আরবের ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশ সংলাপ অব্যাহত রেখেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত মাসে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে কথা বলেন।

 

ইরানের এই হুঁশিয়ারি প্রমাণ করে, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার ফাটল সম্পর্কে অবগত এবং আরব রাজতন্ত্রগুলোকে—যারা সবাই মার্কিন অংশীদার; পরস্পরের থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে কৌশলগত সুবিধা দেখছে।

 

সৌদি আরব এই অঞ্চলের বৃহত্তম দেশ এবং আমিরাতের মতো তাদেরও বিদেশে প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব। সুদানের গৃহযুদ্ধেও দেশ দুটি বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে।

 

যুদ্ধ চলাকালীন কোনও দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করা থামায়নি। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অর্থায়নে পাকিস্তান থেকে আসা অস্ত্রের চালান গত মার্চ মাসে পূর্ব লিবিয়ায় খলিফা হাফতারের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেছে। হাফতারের বাহিনীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাব বলয় থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে রিয়াদ।

সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

পূর্বকোণ/সিজান

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট