প্রযুক্তিবিশ্বের এক মহিরুহের বিদায়ঘণ্টা বাজল। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের সফল যাত্রার পর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন টিম কুক। গতকাল সোমবার অ্যাপল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেছে। কিংবদন্তি স্টিভ জবসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া কুকের অধীনেই অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কোম্পানির হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান জন টার্নাস। ৫০ বছর বয়সী টার্নাস দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত। আইপ্যাড, এয়ারপডস এবং আইফোনের বিভিন্ন প্রজন্মের পণ্য তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। কুক তাঁকে একজন ‘ইঞ্জিনিয়ারের মস্তিষ্ক ও উদ্ভাবকের আত্মা’ সম্পন্ন নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
৬৫ বছর বয়সী টিম কুক সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না। তিনি কোম্পানির ‘এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অনেকটা আমাজন ও নেটফ্লিক্সের প্রতিষ্ঠাতাদের মতোই তিনি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন, বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে।
২০১১ সালে স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর যখন টিম কুক দায়িত্ব নেন, তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল—তিনি কি জবসের মতো দূরদর্শী হতে পারবেন? তবে গত ১৫ বছরে কুক প্রমাণ করেছেন তাঁর ব্যবস্থাপনা দক্ষতা। তাঁর অধীনে অ্যাপলের বাজারমূল্য ৩৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৪০০ লাখ কোটি টাকা) পৌঁছেছে। বার্ষিক রাজস্ব ১০৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬ বিলিয়ন ডলারে।
কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে কুক লিখেছেন, ‘অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং এই অসাধারণ কোম্পানিকে নেতৃত্ব দিতে পারা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া।’
১৯৯৮ সালে অ্যাপলে যোগ দেওয়া কুক কেবল আইফোনের আধিপত্য ধরে রাখেননি, বরং অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস এবং অ্যাপল ভিশন প্রো-এর মতো নতুন সব উদ্ভাবন ও বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, জন টার্নাসের জন্য এই দায়িত্ব যেমন সম্মানের, তেমনি চ্যালেঞ্জেরও। টিম কুক যে বিশাল মাপের সাফল্য রেখে যাচ্ছেন, তা ধরে রাখাই হবে টার্নাসের আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য।
পূর্বকোণ/এএইচ












