তিনি বলেন, বর্তমানে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী হিসেবে মোট ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতদের ৮ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯ হাজার ৫২০ জন এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। নতুন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই ভাতা সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে অবকাঠামোর তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নতুন কর্মসূচি যুক্ত করা এবং বিদ্যমান কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ।
এই বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে।
নতুন বাজেটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/নুসরাত


















