চট্টগ্রাম শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক 

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক 

অনলাইন ডেস্ক

৭ নভেম্বর, ২০২৬ | ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এ অর্থায়নের আওতায় প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিখনফল উন্নয়নে কাজ করা হবে।
 
বিশেষ করে শিশুদের পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা বাড়ানো, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ এ অর্থায়ন অনুমোদন করে।
 
‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকসেলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’ নামের এ কর্মসূচি সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলেও শিক্ষার মান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
 
১০ বছর বয়সী প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু বয়সোপযোগী একটি সহজ লেখা পড়ে তা বুঝতে পারে না। তুলনায় মালয়েশিয়ায় এ হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।
 
অর্থাৎ বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও শিশুদের মৌলিক শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনে ঘাটতি রয়ে গেছে।
 
কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক স্তরে মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতা অর্জনে বিশেষ প্যাকেজ চালু করা হবে।
 
এতে থাকবে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী, কাঠামোবদ্ধ পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ প্রধান শিক্ষককে নেতৃত্ব ও বিদ্যালয় পরিচালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতের উদ্যোগও থাকবে।
 
পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা বা প্রতিকারমূলক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। বিশেষ করে যেসব জেলা শিক্ষার মান ও শিখনফলে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে, সেসব এলাকার শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
 
এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তির আগে শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
 
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি তৈরির অন্যতম ভিত্তি। গত দুই দশকে বাংলাদেশে প্রায় সব শিশুকে বিদ্যালয়ে আনার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করেছে। নতুন অর্থায়ন শিশুদের ভালোভাবে শেখা এবং বিদ্যালয়ে পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে তাদের ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
 
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও কর্মসূচির দলনেতা তাসমিনা রহমান বলেন, উন্নত কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের প্রথম ধাপ হলো প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা। কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না থাকে, সে জন্য এ কর্মসূচিতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষক ও বিদ্যালয় নেতৃত্বের মান উন্নয়ন এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
 
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও মাদরাসা মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ২ কোটির বেশি শিশু পড়াশোনা করছে। কর্মসূচিটির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজার অতিরিক্ত ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
এ অর্থায়ন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে দেওয়া হবে। ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর, যার মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। 
 
 
পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন