চট্টগ্রাম শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

প্রাথমিকের শিক্ষক বদলিতেও লটারি করার চিন্তা

প্রাথমিকের শিক্ষক বদলিতেও লটারি করার চিন্তা

অনলাইন ডেস্ক

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | ২:২২ অপরাহ্ণ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এবার লটারি পদ্ধতি চালুর বিষয়ে চিন্তা করছে সরকার। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কোনো বিদ্যালয়ের একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক যোগ্য আবেদনকারী থাকলে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবেন।
 
লটারির মাধ্যমে শিক্ষক বদলির উদ্যোগের কথা স্বীকার করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের দেওয়া হয়েছে। একই স্থানে একাধিক প্রার্থী থাকলে প্রয়োজনে লটারি করা হবে। বদলির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
 
বদলিতে তদবিরের প্রবণতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আত্মীয়স্বজনের পরিচয় ব্যবহার করে বদলির জন্য তদবির করা হয়। তবে সরকার রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বদলির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। ঢাকায় বদলির ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ থাকলেও তা নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গিয়ে করা হবে না।
 
 
শিক্ষক সংকট নিয়ে তিনি বলেন, প্রাইমারি স্কুলে ৫০ হাজার সহকারী শিক্ষক দরকার। তারপর আমাদের হেড মাস্টার ৩৮ হাজার। পিএসসি বলছে এতো শিক্ষক একসঙ্গে দেয়া সম্ভব না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম। তিনি বললেন লেটস ট্রাই টু ফাইন্ড আউট আদার ওয়ে।
 
 
শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান মন্ত্রী। শিক্ষক সংকটের এ পরিস্থিতিতে বদলির সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষক সংখ্যা বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। কোনো বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকলে সেখান থেকে শিক্ষক সরিয়ে নেওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হতে পারে। তাই বদলির আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শূন্য পদ, শিক্ষক সংকট ও পাঠদান কার্যক্রমের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
 
 
 
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমে চলতি বছরই পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই এবং নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে বদলির আবেদন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে।
 
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২১ জুন নতুন করে বদলি ও পদায়ন পদ্ধতি চালু করে। পরে ১৬ জুলাই সংশোধিত নীতিমালায় কমিটির গঠন ও বদলির শর্তে পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল ‘সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা, ২০২৬’। 
 
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমে চলতি বছরই পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই এবং নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে বদলির আবেদন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে।
 
চাকরির মেয়াদ দুই বছর, পুনর্বদলিতে তিন বছরের শর্ত
সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকার চাকরির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ না হলে সাধারণভাবে বদলির জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই। একবার বদলি হওয়ার পর পরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ফের বদলির আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
 
অর্থাৎ, শুধু পছন্দের কর্মস্থলে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেই বদলি পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শূন্য পদ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
 
একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক বদলির আবেদন করলে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতা থাকলেই বদলি নিশ্চিত হবে না; অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।
 
 
সংশোধিত নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নারী শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর কর্মস্থল কিংবা স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
 
তবে এ অগ্রাধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলির অনুমোদন নিশ্চিত করে না। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে শূন্য পদ, শিক্ষক সংকট এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজন বিবেচনার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বার্থও সংরক্ষণ করতে হবে।
 
লটারির চিন্তা বাস্তবায়নে নীতিমালা সংশোধন প্রয়োজন
 
প্রাথমিক শিক্ষকরা বলছেন, বর্তমান বদলি ব্যবস্থায় চাকরির মেয়াদ, শূন্য পদ, শিক্ষক সংকট, জ্যেষ্ঠতা এবং নির্ধারিত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু একই স্থানে একাধিক প্রার্থী থাকলে লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।
 
অন্যদিকে, নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পদায়নে লটারির ব্যবস্থা থাকলেও কর্মরত শিক্ষকদের বদলিতে একই পদ্ধতি প্রয়োগের বিষয়টি আলাদা। ফলে বদলিতে লটারি চালু করতে হলে কোন পরিস্থিতিতে তা ব্যবহার করা হবে, কারা এতে অংশ নিতে পারবেন এবং নীতিমালার অন্যান্য শর্তের সঙ্গে এর সমন্বয় কীভাবে হবে; এসব বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
 
লটারি চালু হলে একই স্থানে বদলির জন্য একাধিক যোগ্য প্রার্থীর মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তদবিরের সুযোগ কমতে পারে। তবে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট, শূন্য পদ, চাকরির মেয়াদ ও জ্যেষ্ঠতার মতো শর্ত কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নির্ধারণ করাও জরুরি।
 
 
 
পূর্বকোণ/মিফতা
 
 

শেয়ার করুন