চট্টগ্রাম বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

আগামী বছর মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষাও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে: শিক্ষামন্ত্রী

আগামী বছর মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষাও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে: শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে আগামী বছর থেকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সব আবশ্যিক ও সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে এবং অভিন্ন (একক) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে। 
 
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। 
 
শিক্ষামন্ত্রী বলেন,‘মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ পাওয়া যায়। সকলে আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়? আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদ্রাসা ও স্কুল একই প্রশ্ন হবে। নাকি আলাদা হবে? কেন? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ সব জায়গায় ভর্তি হয় একই সাবজেক্টে, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই এরপর থেকে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় আগামীতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারপরে দেখব মাদ্রাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়, তারপর এক্সামিন করব।’
 
বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
 
তিনি বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই এক্সামিনার কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনব। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
 
এমপিও শিক্ষকদের ট্রান্সফার নিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচণ্ড বোঝা! আমি এনটিআরসি  করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবে, সেখানে তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেবে। লাস্ট গভর্নমেন্ট তাদেরকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, ঢালাও জায়গায় জায়গায় পোস্টিং দিয়েছে!’
 
তিনি বলেন, এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকলো যে আমাদের ট্রান্সফার করতে হবে। আমি দেখলাম অবভিয়াসলি কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি একটা অ্যাপস তৈরি করলাম ট্রান্সফারগুলি করার জন্য। 
 
তিনি আরও বলেন, এখন সবাই ট্রান্সফার চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মণিপুর, শাহিন স্কুল! বুঝলেন তো?’
 
ড. মিলন বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেয়—৩১ অক্টোবরের মধ্যে যদি ট্রান্সফার না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিও শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!
 
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মো. আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা–সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
পূর্বকোণ/নুসরাত/পারভেজ

শেয়ার করুন