ফিফার বিশাল এক দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছেন দুই আর্জেন্টাইন ক্রীড়া বিপণন নির্বাহী। লাভজনক সম্প্রচারস্বত্ব পেতে আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা তাঁরা স্বীকার করেছেন।যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে তারা এ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ( ২৯ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে করা এক নথিতে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। বাবা-ছেলে দুজনই আর্জেন্টিনার ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান ফুল প্লের সহ-মালিক। ২০১৫ সালে ফিফাকে ঘিরে শুরু হওয়া ব্যাপক দুর্নীতির তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওই তদন্তে ফিফা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে বড় ধরনের দুর্নীতির তথ্য সামনে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের অংশ হিসেবে জুরিখে ফিফা কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এর পর একের পর এক গ্রেপ্তার, বিচার, দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং কর্মকর্তাদের দোষ স্বীকারের ঘটনা ঘটে।
সমঝোতা অনুযায়ী, জিনকিসদের বিরুদ্ধে আনা প্রতারণার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ প্রত্যাহার করবে। তবে এর বিনিময়ে তারা ৫০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে সম্মত হয়েছেন।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হুগো ও মারিয়ানো জিনকিস ফুটবলের বিভিন্ন টুর্নামেন্টের লাভজনক মিডিয়া ও বিপণন স্বত্ব পাওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে ফিফা, কনকাফাফ ও কনমেবলকে প্রতারণার একটি স্কেম তৈরি করেছিলেন।
নথি অনুযায়ী, তারা ‘দশ কোটি ডলারের’ পর্যায়ের বাণিজ্যিক ঘুষ বিভিন্ন ফুটবল কর্মকর্তাকে দিয়েছেন। এর বিনিময়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের সম্প্রচার ও বিপণন স্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সমর্থন আদায় করেন।
২০১৫ সালের ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারি বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ওই তদন্তের পর ফিফা ও আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলোর বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ ওঠে।
পূর্বকোণ/নুসরাত

















