উজবেকিস্তানে ৩১ আগস্ট শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট। এর আগে প্রস্তুতি হিসেবে থাইল্যান্ডে কয়েকটি অনুশীলন ম্যাচের পরিকল্পনা ছিল, তবে ভিসা-জটিলতার কারণে সেই সফর শেষমেশ বাতিল করতে হয়েছে।
বাফুফে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলারদের থাই ভিসার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। সভাপতি তাবিথ আউয়ালের উদ্যোগে গতকাল ভিসা পাওয়া গেলেও ততক্ষণে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। থাইল্যান্ডে ২৫ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচ নির্ধারিত ছিল, কিন্তু ভিসা আটকে থাকায় দলের ফ্লাইট নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই অনিশ্চয়তার কারণে বুধবার ইন্দোনেশিয়া বিকল্প প্রতিপক্ষ খুঁজে নেয়, ফলে ভিসা পেয়েও লাভ হয়নি।
সম্প্রতি থাই ভিসা না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মাস্টার মনন রেজাও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি; আরও কয়েকজন ক্রীড়াবিদ একই সমস্যায় পড়েছেন। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী থাইল্যান্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল অনূর্ধ্ব-২০ দলের। কিন্তু ভিসাজনিত কারণে ১৮ আগস্ট আরব আমিরাত ম্যাচটিও হয়নি, আর ইন্দোনেশিয়াও পরে অন্য প্রতিপক্ষ বেছে নেয়।
বিদেশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলার সুযোগ না থাকায় এখন ঢাকায় ফর্টিজ ও পুলিশের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অনূর্ধ্ব-২০ দল—কারণ এই দুই ক্লাব এই মুহূর্তে অনুশীলনে ব্যস্ত রয়েছে। এর আগে থাইল্যান্ডের আগে বাহরাইন সফরের পরিকল্পনা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে টিম ম্যানেজমেন্ট সেই সফরে আগ্রহ দেখায়নি।
উল্লেখ্য, সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া এই দলকে ঘিরে এশিয়া কাপে ভালো করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি ও প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। কয়েক সপ্তাহ যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে অনুশীলনের পর দলটি চার দিন আগে ঢাকায় ফিরে কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছে, যদিও সেখানকার পরিবেশ ফুটবলের উপযোগী নয়। ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্স ইতিমধ্যে ২৩ জনের দল চূড়ান্ত করেছেন, যার মধ্যে পাঁচজন প্রবাসী ফুটবলার।
বাছাইপর্বে আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা সাত রানার্সআপ মূলপর্বে জায়গা করে নেবে। বাংলাদেশ রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে, যেখানে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ ভারত ও সিরিয়া। ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তান দিয়ে শুরু হয়ে ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে সিরিয়া ও ভারতের বিপক্ষে খেলবে দলটি।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও রানার্সআপ হয়ে মূলপর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের। এই টুর্নামেন্টের ফলাফলের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে কোচ জেরার্ড জোন্সের বাংলাদেশ-অধ্যায়ের ভবিষ্যৎ—তার কোচিং যোগ্যতা নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও আচরণ নিয়ে বাফুফের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে।
পূর্বকোণ/আদর
















