লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর ৬৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়েস ও স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
জর্জ মেসি ঠিক কোন রোগে আক্রান্ত ছিলেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে গত কয়েক মাস ধরেই তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কা।
২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালেও জর্জের অসুস্থতার বিষয়টি সামনে এসেছিল। একটি ম্যাচে গোলের পর লিওনেল মেসিকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়। পরে ম্যাচ-পরবর্তী কথোপকথনে মেসি জানিয়েছিলেন, তার আবেগের পেছনে ফুটবল-সংক্রান্ত কোনো কারণ ছিল না। এরপর আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে জর্জ মেসির অসুস্থতার খবর প্রকাশিত হয়।
সে সময় মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জর্জ একটি শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিবার আরও জানিয়েছিল, তিনি চিকিৎসার মধ্যে ছিলেন এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের সেই অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে গেলেন মেসির বাবা।
মেসির জীবনে জর্জের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোজারিওতে মেসির শৈশব থেকে শুরু করে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর সময়ও তিনি ছেলের পাশে ছিলেন। কিশোর বয়সে মেসি যখন নতুন দেশ ও নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন পরিবারের অন্য সদস্যরা রোজারিওতে থাকলেও জর্জ কয়েক মাস ছেলের সঙ্গে বার্সেলোনায় ছিলেন।
পরবর্তীতে মেসির ক্যারিয়ার যত বড় হয়েছে, জর্জের ভূমিকাও ততটা বিস্তৃত হয়েছে। তিনি ছেলের পেশাগত বিষয়গুলো দেখভাল করার পাশাপাশি মেসির অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে যুক্ত ছিলেন।
মিডিয়ার সামনে খুব একটা আসতেন না জর্জ। বরং আড়ালে থেকেই ছেলের ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রোজারিওর ছোট্ট ছেলের বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্পে তাই জর্জ মেসির অবদানও অবিচ্ছেদ্য। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বা রোগের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ















