বিশ্বকাপ মিশনে যাওয়া কোনো দেশের যাত্রা শুরু হয় ‘ওয়াটার স্যালুট’ দিয়ে, কারওবা গাড়ি শোডাউন দিয়ে। তবে একদমই ভিন্নভাবে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর যাত্রা শুরু করেছে ইরান। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছেন দেশটির ফুটবলাররা।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই ইরান খেলবে মার্কিন মুল্লুকে। তবে দলটির ক্যাম্প হবে মেক্সিকোয়।
মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রার আগে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত বিদায়ী অনুষ্ঠানে দেখা যায়, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা পবিত্র কুরআন চুম্বন করছেন এবং কুরআনের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানি সংস্কৃতিতে এই রীতি দীর্ঘদিনের। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সফর বা অভিযানের আগে কুরআন চুম্বন ও তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করাকে আল্লাহর সুরক্ষা, দিকনির্দেশনা ও সফলতার আশীর্বাদ কামনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, বিশ্বাস ও গর্বেরও বহিঃপ্রকাশ।
মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি দলটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতাও। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেও ফেডারেশনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রশাসনিক সদস্য ও কারিগরি উপদেষ্টাসহ প্রতিনিধিদলের কিছু সদস্য এখনও ভিসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভিসা জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস অভিযোগ করেছে, জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীদের ভিসা না দেওয়া বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল। তাদের দাবি, জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত অনেক অপরিহার্য সদস্য এখনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশনও। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ভিসা না দেওয়া ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং ক্রীড়াসুলভ সিদ্ধান্ত নয়’।
বিশ্বকাপে ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে চলমান উত্তেজনা ও ভিসা জটিলতার কারণে দলটি তাদের মূল পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মেক্সিকোকে অনুশীলন ক্যাম্পের ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে।
মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় বিশ্বকাপে যাচ্ছে ইরান। প্রস্তুতি ম্যাচে তারা গাম্বিয়া আর মালিকে হারিয়ে ইতিবাচক ফল নিয়ে টুর্নামেন্টে পা রাখছে।
পূর্বকোণ/ইবনুর

















