চট্টগ্রাম বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

শিশুর মানসিক বিকাশে সৃজনশীলতা প্রয়োজন

মিতা পোদ্দার

২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ | ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

‘শৈশবের খেলা হচ্ছে পরবর্তী জীবনের জ্ঞানের ভিত্তি।’ শিশুর বিকাশের জন্য খেলা যে কত গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাটনি স্মিথ বলেছেন, ‘অনুকরণ, অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গঠন— এই চারটি মূল প্রক্রিয়ায় আমরা পৃথিবী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করি। শিশুর খেলা সেই চারটি প্রক্রিয়া নিয়েই গঠিত। শারীরিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর মানসিক, সামাজিক, আবেগ বিকাশেও খেলাধুলার গুরুত্ব অনেক। খেলার মাধ্যমে শিশুর সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি, সামাজিক জ্ঞানবোধ, সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব এবং নেতৃত্বগুণ বিকশিত হয়।’

৫ থেকে ১০ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য দিনে অন্তত এক ঘণ্টা বাইরে খেলাধুলা করার সুযোগ দিতে হবে। আমাদের প্রতিটি সন্তান কি সেই সুযোগ পাচ্ছে? অথবা আমরা কী তাদের সেই সুযোগ করে দিচ্ছি। প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো নৈতিক, মানসিক, সামাজিক আধ্যাত্মিক ও মানবিক বিষয়ে শিশুর সর্বাঙ্গীণ বিকাশ ও উন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সামর্থ্য, প্রবণতা ও আগ্রহ অনুসারে তাকে পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা এবং পরবর্তী স্তরে শিক্ষালাভের উপযোগী করে গড়ে তোলা আবশ্যক। আর এসবের জন্য মূলত যেটি প্রয়োজন সেটি হলো নিয়মিত খেলাধুলা।

ব্যাহত হচ্ছে শিশুর সৃজনশীলতা। প্রতিটি শিক্ষার্থীর সার্বিক জীবনে সৃজনশীলতার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, সৃজনশীলতার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে আদর্শ মানুষে পরিণত হয়। সৃজনশীলতার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে বিকশিত করতে পারে। সমাজ তথা দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, সৃজনশীল ক্ষমতা ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর শিক্ষার্থী সৃজনশীল না হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে হয়, যেটা কাম্যও নয়। পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপরে সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনা থাকতে হবে। সৃজনশীল পদ্ধতিটি স্বাভাবিকভাবেই একটি জটিল বিষয়। সাধারণত একটি শিশুর জন্মের কয়েক মাস পরেই কথা বলতে চায়।

শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেন তার পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য লোকজন। তারা নানাভাবে শিশুটিকে কথা বলানো শেখান। সে কথা না বললেও বারবার চারদিকে কথার মালা ছুড়ে দেওয়া হয়। মজার বিষয় হলো- ধীরে ধীরে শিশুটি কথা বলতে শিখে যায়। একটা সময় পরিবারের সবাইকে মন থেকেই চিনে ফেলে। তাদের নাম ধরে ডাকতে চায়। আবার কে, কি করছে তা খুব নিঁখুতভাবে লক্ষ্য করে। পরে শিশুটি সেগুলো করার চেষ্টা করে। যদি আপনারা একটু লক্ষ্য করেন, তাহলে বুঝতে পারবেন যে শিশুটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠ্যবিষয়ের উপর বর্তমানে সৃজনশীল পদ্ধতিতে শেখানো হচ্ছে। ক্লাসের সবাই মিলে সুরে সুরে ছড়া, কবিতা, গল্প পাঠ করে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের খেলায় মেতে থাকে। অনেক সুন্দর করে ছবিও আঁকে। আমার কাছে ছবি আঁকাটাই সৃজনশীলতার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে মনে হয়।

একজন শিক্ষার্থী ছবি আঁকার সময় মনের মাধুরী মিশিয়ে ছবি আঁকতে থাকে। নতুন নতুন দৃশ্য কল্পনা করে তার ছবিতে তুলে আনার চেষ্টা করে। আর এখানেই সৃজনশীলতার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ সাধনে সৃজনশীলতা প্রয়োজন রয়েছে। সৃজনশীল ধ্যান-ধারণা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলে যা একজন শিক্ষার্থীর সার্বিক জীবনে সুফল বয়ে আনে। সৃজনশীল জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি সহজেই সব পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এটি সৃজনশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিক্ষার্থীরা যদি সৃজনশীল বান্ধব হতে পারে, তাহলে সব সময় যে কোনো আলোচনা-সমালোচনা, সুযোগ-সুবিধা, ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ প্রভৃতি বিষয় সহজেই উপলব্ধি করতে পারবে। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পদ। আর এই সম্পদের পরিপূর্ণ বিকাশসাধনে সৃজনশীলতার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সার্বিকজীবনে একারণেই সৃজনশীলতার প্রয়োজন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল চিন্তা-চেতনার মাধ্যমেই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সমস্যা মোকাবিলা করে বিশ্ব নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট