কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি আবাসিক হাফেজিয়া মাদ্রাসার ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই ছাত্রকে একাধিকবার বলাৎকারের অভিযোগে মো. কবির হোসেন নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা মো. কবির হোসেন প্রায় এক মাস আগে চৌদ্দগ্রামের ওই হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি আবাসিক বিভাগের ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই ছাত্রকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। লোকলজ্জা ও ভয়ে শিশুরা প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও সম্প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে তারা পরিবারের সদস্যদের সব কিছু জানিয়ে দেয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে গতকাল ০১ নভেম্বর বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবার, অন্যান্য অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশের একটি দল রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষক কবির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী দুই শিশুর বাবা প্রবাসে থাকায় একজনের চাচা এবং অন্যজনের দাদা বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি ধর্ষণের মামলা করেন। ওই মামলার পর আটক শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। দুই শিশুর পরিবারের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
পূর্বকোণ/মেহেদী



















