চট্টগ্রাম শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

আশুলিয়াতেও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ২৫ কারখানা ছুটি

অনলাইন ডেস্ক

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ | ৬:৫১ অপরাহ্ণ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, অযৌক্তিক ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ বন্ধ এবং ছাঁটাইকৃত তৈরি পোশাক শ্রমিকদের পুনর্বাসনসহ নানা দাবিতে গাজীপুরের পাশাপাশি উত্তাল হয়ে উঠেছে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলও। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে ছয় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

 

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচারে এবং কারখানাগুলোতে ভাঙচুর ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আশুলিয়ার কাঠগড়া, জিরাব, নরসিংহপুর এবং আমতলাসহ আশপাশের এলাকার ২৫টি তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ।

 

এ দিকে সংঘাতের মধ্যেই দুপুরের দিকে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত ‘নিউ এইজ’ কারখানার সামনে থেকে হাতবোমা সদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়।

 

শিল্প পুলিশ-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ ফয়সাল ইসলাম বলেন, “শ্রমিকদের আন্দোলনের মাঝে হাতবোমা সদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় শিল্প পুলিশের সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কে বা কারা এই বস্তুগুলো সেখানে বহন করে এনেছে বা রেখে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানাকে জানানো হয়েছে। পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

 

এদিকে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে ওই যানচলাচল বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা। দুপুরে কালিয়াকৈর (চন্দ্রা) পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শুরু হওয়া এ অবরোধ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকেও চলছিল বলে জানিয়েছেন কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম।

 

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। মহাসড়ক অবরোধ, মিছিল, কারখানা ভাঙচুরসহ বিভিন্ন উপায়ে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে গাজীপুরের পাশে থাকা আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও আন্দোলনে সড়কে নামলেন শ্রমিকরা।

 

প্রত্যক্ষদর্শী, শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ জানায়, সকাল থেকেই আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কাঠগড়া বাজার, নয়াপাড়া, জিরাব ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।

 

এ সময় কন্টিনেন্টাল, এআর জিন্স ও সিডব্লিউএসহ বেশ কিছু কারখানায় শ্রমিকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বিশেষ করে এআর জিন্স ও কন্টিনেন্টাল কারখানার বিভিন্ন গ্লাস ভাঙচুরের শিকার হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এআর জিন্সসহ সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

 

 

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট