কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা এ ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়াম বহনকারী তিনটি লরি বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে নাটোর-কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঢোকে। এ সময় প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ার নাগরিকসহ কর্মকর্তারা গাড়ি বহরকে স্বাগত জানান।
ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো আসার সময় মহাসড়কে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাবলয় ছিল। নিরাপত্তার জন্য বেলা পৌনে ১০টা থেকে সোয়া ১০টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি বহনকারী প্লেনটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের চালানটি গ্রহণ করেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৫টায় গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরও নয়টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, ঢাকা থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো ভালোভাবে যাতে পৌঁছে যেতে পারে, সেজন্য পাবনা জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়কে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় রেখেছিল। সড়কে যানযটের সৃষ্টি না হয়, বেলা পৌনে ১০টা থেকে সোয়া ১০টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
পূর্বকোণ/ইবনুর


















