চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহে ২০ কারখানা ছুটি ঘোষণা

গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহে ২০ কারখানা ছুটি ঘোষণা

২০ আগস্ট, ২০২৬ | ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলের ২০টি কারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, “সকাল থেকে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের অভাবের মধ্যে শ্রমিকরা কারখানায় আসেন। ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছুটি দিতে হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতেও উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”

শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভালুকা পৌর এলাকা, তিতাস কার্যালয়ের আশপাশের কারখানাগুলোতে গ্যাসের কিছুটা চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে একেবারে নেই। চাহিদামত গ্যাসের চাপ না থাকায় একের পর এক কারখানার উৎপাদন থমকে যেতে বসেছে। কোনো কোনো কারখানায় অর্ধেকেরও বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা। সার্বিকভাবে এ অঞ্চলের প্রধান প্রধান শিল্প কারখানাগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন।

শিল্প পুলিশ-৫ (ময়মনসিংহ ইউনিট) এর তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে মোট ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসে পরিচালিত। বর্তমানে এসব কারখানার প্রায় প্রতিটিই গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল, ফলে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

শিল্প পুলিশের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্যাস সংকটে সবচেয়ে করুণ অবস্থায় পড়েছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির স্পিনিং মিলগুলো। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে মোট ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে; কারখানা কর্তৃপক্ষ মাত্র সাতটি মেশিন পিডিবি বিদ্যুতের মাধ্যমে সচল রাখতে পেরেছেন। একই চিত্র ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসে। গ্যাসের সংকট থাকায় তাদের ৩০টি মেশিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সার্বিক উৎপাদন অর্ধেক কমে গেছে।

এ ছাড়া বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সে উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি হ্রাস পেয়েছে|অন্যদিকে এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকের নিচে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলের শ্রমিক হাফিজা আক্তার বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে কাজ অনেক কমে গেছে। সব মেশিন এক সঙ্গে চলছে না। আমাদের বাসাবাড়িতেও গ্যাস সংকট রয়েছে। যার কারণে রান্না-বান্না ব্যাহত হচ্ছে।”

 

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট