নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানি রাখার একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নবজাতকের মাকে পুলিশ আটক করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার হয়।
ওই নবজাতক মজুমদারহাট এলাকার বাসিন্দা সৌরভ হোসেনের ছেলে। তার মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। ফাতেমা উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরের নভেম্বরে সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। ৪ আগস্ট ফাতেমা ছেলেসন্তানটি প্রসব করেন। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে তার সন্তানকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমার কাছে জানতে চাইলে তিনি নানা ধরনের কথা বলতে থাকেন। প্রথমে দাবি করেন, তার মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে কেউ নিয়ে গেছে। আবার বলেন, শিশুটিকে ‘জিন’ নিয়ে গেছে। ফাতেমার অসংলগ্ন কথাবার্তায় পরিবারের সন্দেহ হলে ওই নবজাতককে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি ড্রামে নবজাতকটির মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, ফাতেমা বেগম সন্তানকে ড্রামের পানিতে চুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ফাতেমা জানিয়েছেন, ওই নবজাতক সারাদিন কান্নাকাটি করত, তাঁকে ঘুমাতে দিত না, তাই ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান , ‘নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই নবজাতকের পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।’
পূর্বকোণ/নুসরাত
















