৩৪ দিন পর সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা করে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দিনভর গণনা শেষে নগদ টাকার পাশাপাশি ২ ভরি ১ আনা স্বর্ণ, ১ ভরি ২ আনা রুপা এবং ডলার, পাউন্ডসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়।
সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দানবাক্স থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে-ব্রিটিশ পাউন্ড ৩১ পাউন্ড ১১ পেন্স, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ২৪৮, পাকিস্তানি রুপি ৬০, সৌদি রিয়াল ৭০, মালয়েশীয় রিঙ্গিত ৮৩, মার্কিন ডলার ৪, নেপালি রুপি ১০০, ওমানি রিয়াল ১ ও ১ হাজার বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৬৪ দিরহাম ২২ ফিলস, ইরাকি দিনার ২৫০, তুর্কি লিরা ৯০, ভিয়েতনামের ডং ১ হাজার, জাপানি ইয়েন ১ হাজার, কাতারি রিয়াল ১১২ রিয়াল ৫০ দিরহাম, লেবানিজ পাউন্ড ১০, মিসরীয় পাউন্ড ১০, ইউরো ৪০ সেন্ট, বাহরাইনি মুদ্রা ১ এবং কানাডীয় ডলার ১।
এর আগে গত ২২ জুন মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়।
তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে প্রথা ভেঙে দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়। দানবাক্স বসানোর চার দিন পর গণনা শেষে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
এর সঙ্গে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। পরে এসব অর্থ সোনালী ব্যাংকে খোলা নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হয়।
এর ১৯ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে খোলা হয় মাজারের দানবাক্স ও তিনটি ডেগ। দ্বিতীয় দফার গণনা শেষে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। প্রশাসন ও মাজার ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে ওই অর্থ গণনা করা হয়।
এ ছাড়া মাজারে দান করা গরু, খাসি, ছাগল ও হাঁস-মুরগি খাদেমদের কাছে রয়েছে বলেও জানানো হয়।
পূর্বকোণ/রেহেনুমা/পারভেজ


















