চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, যেভাবে হবে ভোটগ্রহণ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, যেভাবে হবে ভোটগ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক

১১ আগস্ট, ২০২৬ | ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে নির্ধারিত বুথে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রার্থীর নাম লিখে ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রস্তুত করে তা প্রকাশ করা হবে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

 

এর আগে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্পিকার, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিসহ নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

চিফ হুইপ বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, বাছাই করা এবং প্রত্যাহারের একটা তারিখ আছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। প্রত্যাহারেরও শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। এরপর আমরা নির্বাচন করবো।”

 

তিনি বলেন, “আমাদের বিএনপি দলীয় প্রার্থী আমরা এখনও চূড়ান্ত করিনি। প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং আমাদের দল থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন।”

 

বিরোধী দল থেকেও একজন প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আজকে আমরা বসেছিলাম। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, আমরা, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা স্পিকারের সভাপতিত্বে বৈঠক করেছি।”

 

বিকাল ২টা থেকে ৫টা ভোট

ভোটগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে চিফ হুইপ বলেন, “বিকাল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নির্বাচন হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের আসন নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন। ভোটের ব্যালটে প্রার্থীর নামের সামনে ভোট দিতে হবে। ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।”

 

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকার মহোদয় ভোট দেবেন। ভোট দেওয়ার সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকবে। ভোটগ্রহণ সরাসরি দেখানো হবে। ভোট শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রস্তুতের সময়ও গণমাধ্যমকে জানানো হবে।”

 

চিফ হুইপ জানান, সংসদ ভবনের ভেতরেই ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। ভোটের জন্য বুথ থাকবে। সংসদ সদস্যরা সেখানে গিয়ে ভোট দেবেন।

 

তিনি বলেন, “মোট ৩৪৯টি ভোট আছে। যদি দেখা যায় এক ঘণ্টার মধ্যেই ভোট হয়ে গেছে, তাহলে এক ঘণ্টা পর ফলাফল প্রস্তুতের কাজ শুরু করা যাবে। আর যদি কোনও ভোট বাকি থাকে, তাহলে বিকাল ৫টার পর ভোট শেষ করে ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।”

 

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা থাকবেন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার এখানে আজকে কর্মকর্তা থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা থাকবেন। কমিশন থেকে কোনও কমিশনার এলে তিনিও থাকবেন। অন্যান্য কর্মকর্তারাও থাকবেন। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবেন।”

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “একটা বৈঠক ডাকা হবে। বৈঠকটি নির্বাচন কমিশন ডাকবে। সংবিধান যেহেতু ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা কার্যকর।”

 

দলীয় প্রার্থীর বাইরে ভোট দেওয়া যাবে না

দলীয় প্রার্থীর বাইরে বিএনপির সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীর বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবে না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না।”

 

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যখন বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন, তখন আমরা সবাই একসঙ্গে যাবো। যেদিন নির্বাচন হবে, সেদিন মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও আমরা সবাই একসঙ্গে থাকবো।”

 

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় বিরোধী দল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরকার দলের অবস্থান জানতে চাইলে চিফ হুইপ বলেন, “আপনারা জানেন, আমাদের বিরোধী দলের যে ১১ দলীয় জোট, তাদের পক্ষ থেকে কর্নেল অলি আহমদ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।”

 

তিনি বলেন, “এর আগে প্রায় ৩৫ বছরের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, গণতন্ত্রের জন্য একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। দেশের মানুষকে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থানটাও জানাতে চাই।”

 

চিফ হুইপ আরও বলেন, “আমাদের যিনি প্রার্থী, তাকে আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবক হিসেবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মনে করছি। এটা আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়া।”

 

জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন চেয়েছিল বিরোধী দল

জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার প্রত্যাশা ছিল জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা ছিল, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা হওয়া উচিত ছিল। নির্বাচনের পরে যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, সংসদ যদি সেটার সংস্কার করে, ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা করতে পারতাম এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অনেক জায়গায় বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল।”

 

তিনি বলেন, “তাহলে আমরা আসলেই একটা নতুন বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং একজন রাষ্ট্রপতি পেতাম, যিনি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন। কিন্তু সেটা হয়নি। তারপরও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, আমরা এটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চাই না। সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।”

 

সংবিধান সংস্কার নিয়ে যা বললেন

সংবিধান সংস্কার নাকি সংশোধন— এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, এটা দেশ নতুন করে স্বাধীন হওয়ার মতো পরিস্থিতি নয় যে নতুন করে সংবিধান লেখার প্রশ্ন আসবে। পৃথিবীর যত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আছে, সেখানেও সংবিধান সংশোধন করা হয়।”

 

তিনি বলেন, “ভারতে ১৯৫০ সালে সংবিধান গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর বহুবার সংবিধান পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু নতুন করে সংবিধান লেখা হয়নি। আমরা যেটা করবো, সেটা জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি দাঁড়ি-সেমিকোলন যেভাবে আছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করবো। যেটা সবাই মিলে স্বাক্ষর করেছি, সেভাবেই বাস্তবায়ন করবো।”

 

চিফ হুইপ বলেন, “আগামী সেশনেই আপনারা দেখবেন, আমরা একটি নতুন বিল আনছি। কীভাবে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে এবং গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, সেই কাজ আমরা করবো।”

 

প্রকাশ্য ভোটে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

চিফ হুইপ জানান, বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা চিফ হুইপের বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, জুলাই সনদে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, তা সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটপদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রকাশ্য ভোটে হবে নাকি গোপন ব্যালটে হবে— সেটিই ছিল মূল বিষয়।

 

তিনি বলেন, “প্রকাশ্য ভোট হলে ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সবাই একটা জায়গায় ভোট দেয়। সেখানে আসলে স্বাধীন সিদ্ধান্ত থাকে না। কিন্তু গোপন ব্যালটে ভোট হলে ৭০ অনুচ্ছেদ থাকলেও ভোটের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার সুযোগ থাকতো।”

 

তিনি আরও বলেন, “এটা সবাই মেনে নিয়েছিল যে গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। এ জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনও ছিল না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে আইন আছে, সেটি সংশোধন করে ব্যালটের ব্যবস্থা করা যেতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা এখন হয়নি। ভবিষ্যতে হবে।”

 

বর্তমান ভোটপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “এখন সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থীর সামনে তার নাম লিখবেন। ভোটটি প্রকাশ্য বা গোপন— যেটাই হোক, সেখানে ভোটদাতাকে নিজের নাম ও আসন নম্বর লিখতে হবে। ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব। এখানে আপাতত কোনো গোপনীয়তা নেই। ভবিষ্যতে যেভাবে সিদ্ধান্ত হবে, সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট