জাতীয় সংসদে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লিফলেট পাওয়া গেছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বিরোধী দল কেন সংস্কার চায় সেখানে (লিফলেট) কয়েকটি পয়েন্ট দিয়েছেন। এই পয়েন্টের মধ্যে কোথাও জুলাই সনদের কথা বলা নাই। এখানে বলেছেন, গণভোটের কথা ব্যাখ্যা করেছি। জুলাই সনদ থেকে গণভোটকে ডেভিয়েট (বিচ্যুত) করা হয়েছে। দ্যাট ইজ এ ফ্রড অন দ্য কনস্টিটিউশন অ্যান্ড দ্যাট ইজ এ ফ্রড অন দ্য ল। জুলাই জাতীয় সনদ যেটা ৩৩টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিলেন, লিফলেটে সেটির নাম চিহ্ন নাই। গণভোটে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান আধা প্রেম, আধা প্রতারণা।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা জানান আইনমন্ত্রী। অধিবেশনের এ পর্যায়ে সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যরিস্টার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী বলেন, “এই সংসদ আগামী দিনে একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশ ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্য দিয়ে অর্জিত। ৯০ এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে চেতনাকে ধারণ করে আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারি। আমরা বিশ্বের দেশে দেশে দেখেছি, বিপ্লব ঘটেছে। ফরাসি বিপ্লব ঘটেছে, জুলাই বসন্ত এসেছে, আরব বসন্ত এসেছে, অরেঞ্জ বসন্ত এসেছে, সমস্ত বসন্তের পরই সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতার ভিত্তি হয় গণঅভ্যুত্থান। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা আমরা যেটা দেখছি, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমি লক্ষ্য করলাম, সেটা নেই।”
তিনি বলেন, “এটা (লিফলেট) পড়তে যেয়ে মনে হলো, ৩৩ এ পাসের একটা থিওরি আছে। এটা পড়তে যেয়ে মনে হলো আমি কি ৩৩ এ পাসের স্টেজে আছি। ৩৩ এ পাস আসলো ১৮৫৪ সালে, এই উপমহাদেশে যখন ম্যাট্রিকুলেশনের পরীক্ষা শুরু হবে সেই সময়। তখন ব্রিটেনে পাসের মাস ছিল ৬৫ নম্বর। ব্রিটিশরা মনে করতেন, এই উপমহাদেশের মানুষ ব্রিটিশদের থেকে অর্ধেক বুদ্ধি ধারণ করেন। তাই উনারা সাড়ে ৩২ নাম্বারে পাসের মার্কস করলেন। ওখানে ছিল ৬৫, এখানে হল সাড়ে ৩২। চার বছর পরে ১৯৬২ সালে এটা ৩৩ করা হলো। আমার মনে হচ্ছে, উনারা এমনভাবে লিখেছেন আমি কি সেই ৩৩ এ পাসের মতন উনাদের থেকে এখনও অর্ধশিক্ষিত আছি? যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই সনদের কোনও শব্দ নেই।”
আসাদুজ্জামান বলেন, “মাননীয় স্পিকার, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক। এখন যদি বলি যে এটা কবে হবে? তাহলে ফিলিস্তিনি জাতীয় কবি মাহমুদ দারুইশের একটি কবিতার কথা মনে পড়ে। মাহমুদ দারুইশের প্রেমিকা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন মাহমুদ আমাদের দেখা হবে কবে? উনি বলেছিলেন, যেদিন যুদ্ধ থামবে। প্রেমিকা জিজ্ঞাসা করলেন, যুদ্ধ কবে থামবে? উনি বললেন যেদিন আমাদের দেখা হবে।”
জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে বিএনপির কোনও আপত্তি কখনও ছিল না। বাকি অর্ধেক যে প্রশ্নটা সে আধা প্রশ্নটা হলো আধা প্রেম, আধা প্রতারণা। আধা প্রেম কী রকম? দেখাচ্ছেন আমরা করতে চাচ্ছি। এটা জুলাই সনদের অংশ। আধা প্রতারণা হলো, জুলাই সনদের মধ্যে বলা আছে। ওই প্রশ্নটা কখনওই প্রাসঙ্গিক হবে না বিএনপির জন্য।”
জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, নির্বাচনের মাঠে আমাদের নিজস্ব এজেন্ডা ছিল। নির্বাচনের মাঠে যখন মা-বোনের কাছে ভোট চাইতে গেছি তখন শুনেছি বেহেশতের টিকিট নাকি কেউ বিক্রি করেছেন। আমি নিজে কানে শুনেছি, আই এম দ্য উইটনেস।”
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে বীর শব্দ বলার বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, “এই মহান সংসদে আমি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধীদলের সকল সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ধন্যবাদ জানানোর কারণ বীর মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে সেই আইনে জামায়াতে ইসলাম বিরোধিতা করেননি। সে আইনে এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অনুসমর্থন জানানো হয়েছে। এই কারণে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাই অপারেশন অব ল অ্যান্ড ইন্টারপ্রিটেশন তাহলে স্টাবলিশ হয়ে গেল যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিলেন। কারা খুন ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যারা বাংলাদেশের অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।”
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ





















