ঢাকা জাতীয় সংসদে নিজের পারিবারিক পরিচয় এবং রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পরপরই দাঁড়িয়ে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক আদর্শ ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন প্রতিবাদলিপিতে শফিকুর রহমান বলেন, ফজলুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে তাকে আক্রমণ করেছেন এবং তার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হওয়ার পরিচয়কে চ্যালেঞ্জ করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন যে, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারবে না—এমন মন্তব্য করার কোনো অধিকার রাষ্ট্র বা সংবিধান কাউকে দেয়নি। তিনি একে তার নাগরিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ এবং একটি ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
অসংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি শফিকুর রহমান স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান যেন ফজলুর রহমানের বক্তব্যের ওই বিতর্কিত এবং অসংসদীয় অংশগুলো সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাতিল) করা হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলের গঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার শেষে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের কাছ থেকে ‘যার মগজ যেরকম তার কনক্লুশনও হবে তার মতো’—এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তিনি আশা করেননি।
যুক্তি বনাম গালিগালাজ সংসদে সৌজন্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “গালি দেওয়ার মাধ্যমে বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়, কেবল কিছু গলাবাজি হতে পারে”।
তিনি একটি প্রবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘রেগে গেলেন তো হেরেই গেলেন’। সাধারণত যখন মানুষের যুক্তি ফুরিয়ে যায়, তখনই তারা মাথা গরম করে ফেলেন। তিনি দেশবাসীর আস্থা অর্জনে সবাইকে সত্যনির্ভর এবং যুক্তিনির্ভর কথা বলার আহ্বান জানান।
স্পিকারের সিদ্ধান্ত শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর স্পিকার আশ্বস্ত করেন যে, সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে যদি কোনো প্রকার অসংসদীয় শব্দ বা অংশ থাকে, তবে তা কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা হবে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ





















